ফোন করলেই কর্মহীনদের বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ

39

নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের পাশে ভাড়া বাসায় থাকেন গার্মেন্টকর্মী আমেনা বেগম (ছদ্মনাম)। করোনার কারণে এক সপ্তাহ ধরে বাসায় আছেন তিনি। একদিন সকালে উঠে দেখেন বাসার সামনে প্রায় ১০ কেজি ওজনের বিভিন্ন খাবার সামগ্রী। স্বামী ৫ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার তার। এ সাহায্য পেয়ে অনেক খুশি তিনি। আমেনা বেগম বলেন, দুইদিন আগে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে নাম্বার পেয়ে ফোন করে অভাবের কথা জানাই। তারা বাসার ঠিকানা লিখে রাখেন। পরেরদিন দেখি বাসার সামনে এসব খাবার। তিনি বলেন, অনেক কষ্টের সংসার। সামান্য বেতনের টাকা যা ছিলো, তা ২৫ তারিখে শেষ। কয়েকদিন ধার-দেনা করে চলেছি। এ মুহূর্তে এমন সাহায্য অনেক বড় পাওয়া। পরে পাশের বাসার অনেক প্রতিবেশি আমার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে কল করেন। তারাও ওইদিন রাতে এসব খাবার সামগ্রী পেয়েছেন। তিনি জানান, পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুর উদ্যোগে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, শুধু বহদ্দারহাট নয়, জিইসি মোড়, বৃহত্তর বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ষোলশহর, দুই নম্বর গেইট ও চকবাজার এলাকায়ও পরিচয় গোপন রেখে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সাহায্য করছেন সাবেক ছাত্রনেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু।
যাদের মূলত সাহায্যের প্রয়োজন অথচ লজ্জায় প্রকাশ্যে চাইতে পারছেন না, এমন পরিবার ফোন করে যোগাযোগ করলেই তাদের বাসায় ৫ কেজি চাল, এক লিটার তেল, দুই কেজি আলু, এক কেজি লবণ, ডাল ও সাবানসহ ১০ কেজির প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার পরিবারকে এ সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আরশেদুল আলম বাচ্চু বলেন, যাদের মূলত ত্রাণ প্রয়োজন কিন্তু চাইতে পারছেন না, তারা ফোন করে যোগাযোগ করলেই পরিচয় গোপন রেখে তাদের বাসায় বিভিন্ন খাবারের ১০ কেজির প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছে থানাভিত্তিক প্রতিনিধিরা। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তাদের নাম ও নাম্বারসহ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বাংলানিউজ।
ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন বায়েজিদ থানা এলাকায় ফয়সাল আহমেদ (০১৮১৯৮৮৬৩৬৬), মাহফুজ হোসাইন (০১৬২৯৬২০০৫৮), ডবলমুরিংয়ে কাজী মাহমুদুল হাসান রনি (০১৮৮৭৯২৮০৪৫), রাকিব হায়দার (০১৮১৯১১৯০৪৪), বাকলিয়ায় নাদিম উদ্দিন (০১৮১৪৭০০৫৮১), এনামুল হক মানিক (০১৮১১৫২৯০৮৫), মিজানুর রহমান (০১৯২৫৩৫৩২৬৪), কোতোয়ালিতে মুজিবর রহমান (০১৬৭৪৪৫১৬৮০), চাঁন্দগাওয়ে নূর নবী শাহেদ (০১৮১৫৯৫৩৬৬২), পাহাড়তলীতে ইমাম হোসেন ইমন (০১৭৫৩২০০৯২৬), ফারুক আহমেদ অপু (০১৮২২৮৯০৪৭৩), আকবর শাহ এলাকায় জুয়েল সিদ্দিকী (০১৮৪০৩৩৯৬৭৮), পাঁচলাইশে আবদুল আল আহাদ (০১৮১৯৫০৬০৬২), সোহেল বড়ুয়া (০১৮১১৯৮৯০১৫), খুলশীতে রুবেল সরকার (০১৬৭৫৪৩৫৭০৩), শাহাদাত হোসেন হীরা (০১৬৮৩২১২৯৫০), হালিশহরে এস এম মিজবাহ (০১৬৮২৫৯৬৬০৫), ইমরান খান আরভি (০১৮৪৫৭৯৯৬০৩), জাবেদ রহিম মুন (০১৬৮০৫৫৯৬৮৯)।
এছাড়া বন্দর থানা এলাকায় নুরুজ্জামান বাবু (০১৮৭৮৯০২৫৮৩), চকবাজারে আনোয়ার হোসেন আবির (০১৮২২৪৪১২১৪), জাহেদুর রহমান (০১৮২৭২২৯৫৮৪), সদরঘাট থানা এলাকায় জোবায়ের রহমান (০১৭৬০৮৩৫১৯১), আনিসুর রহমান (০১৭৮১৬৮৮০৬৬), সোহেল রানা (০১৮৮১৯৭৪৩৩১), ইপিজেড থানা এলাকায় জরজীশ (০১৬৭২৩৩৭৬৮৭) ও পতেঙ্গায় মেহেরাজ তৌসিফ (০১৮৫৫৫৩৫৮৯৬) দায়িত্ব পালন করছেন। বিজ্ঞপ্তি