ফেসবুককে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

22

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস করে সহযোগিতা করার দায়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে এবার পাঁচ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। বাংলাদেশি টাকায় এ অর্থদÐের পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার ২শ’ ৪৮ কোটি টাকা।
গতকাল শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানায়, সা¤প্রতিক তদন্তের প্রেক্ষিতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ফাঁস করায় ফেসবুককে রেকর্ড পাঁচ বিলিয়ন ডলার জরিমানার অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা।
গত বছরের মার্চে ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে এফটিসি। ব্যবহারকারীর তথ্য অন্য কাউকে দিতে হলে অবশ্যই তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালে করা এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে কি-না, সেটাই ছিল তদন্তের মূল বিষয়। খবর বাংলানিউজের
ফেসবুকের ওপর পাঁচ বিলিয়ন ডলার জরিমানার প্রস্তাব এফটিসিতে ৩-২ ভোটে পাস হয়। এতে ডেমোক্র্যাটরা সম্মতি দিলেও বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান কমিশনাররা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ফেসবুকের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি, পাঁচ বিলিয়ন ডলার জরিমানাকেও অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ জরিমানা কার্যকর হতে হলে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের অনুমোদন পেতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় বেশ লম্বা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি চূড়ান্ত হলে, এটিই হবে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে করা এফটিসির সর্বোচ্চ জরিমানা।
তবে, বিশাল অংকের জরিমানায় অবাক হয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়টি তারা আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। গত এপ্রিলেই প্রতিষ্ঠানটি তার বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিল, জরিমানা দেওয়ার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। এ কারণে, তাদের কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হবে না।
রেফসবুকের এ ঘোষণায় কাজও হয়েছে। ধসের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে, এসময় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়েছিল তারা। একটি সাধারণ কুইজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিত্ব ও আগ্রহ সম্পর্কে তথ্য হাতিয়ে নেয় ক্যামব্রিজ, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। শুধু এক জন ব্যবহারকারীই নয়, বিভিন্ন অ্যাপ ও গেমসের মাধ্যমে তার বন্ধুদের তথ্যও সংগ্রহ করা হয় এসময়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রায় ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারী।
এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে যুক্তরাজ্য। এ বছর কানাডার তদন্তকারী সংস্থাও জানিয়েছে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।