ফেশিয়াল রিকগনিশন ‘ব্যবসায়’ থাকবে না আইবিএম

34

 

বায়োমেট্রিক ডেটা, ফেশিয়াল রিকগনিশনের মতো বিষয়ে যখন ঝাপিয়ে পরছে বিশ্বের বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তখন আইবিএম উল্টো পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের পেছনে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে।
বর্ণভিত্তিক ন্যায্যতার উন্নয়ন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোয় মিশে যাওয়া বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ফেশিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক ব্যবসা থেকে সরে আসার ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সোমবার মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের কাছে চিঠি লিখেছেন আইবিএম প্রধান আরভিন্দ কৃষ্ণা।
“গণ নজরদারি, বর্ণভিত্তিক শ্রেণিকরণ, মৌলিক মানব অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করার কাজে ব্যবহার হয় বা আমাদের বিশ্বাস ও স্বচ্ছ্বতার মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না এমন কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার আইবিএম করবে না। এর মধ্যে অন্যান্য সরবরাহকারীর দেওয়া ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিও রয়েছে”। – কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে বলেছেন আরভিন্দ।
কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের কাছে পাঠানো ওই চিঠি আইবিএম তাদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস সদস্য ক্যারেন ব্যাস, কোরি বুকার এবং সিনেটর কামালা হ্যারিস ও হাকিম জেফ্রিসকে পাঠানো হয়েছে ওই চিঠি।
আইবিএম প্রধান আরও বলেছেন, “স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি কখন এবং কীভাবে ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আলোচনা শুরু করার এখনই সময় বলে আমরা মনে করি”।
এপ্রিলে আইবিএমের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কৃষ্ণা। দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন আইবিএমের ক্লাউড ব্যবসা নিয়েই বেশি আগ্রহী তিনি।
মে মাসের ২৫ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশি নিপীড়নে মারা যান কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েড। ওই ঘটনার পর সামনে উঠে এসেছে পুলিশ বহিনীর সংস্কার এবং বর্ণবাদ বিলোপের মতো বিষয়াদি। এ বাস্তবতায় নিজেদের ফেশিয়াল রিকগনিশন সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইবিএম। – পুরো বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে সিএনবিসি’কে।
আইবিএমের ফেশিয়াল রিকগনিশন ব্যবসা থেকে প্রতিষ্ঠানের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো লাভ হতো না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র। তিনি আরও জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি একদিক থেকে ব্যবসায়িক, আরেক দিক থেকে নৈতিক। সূত্র : ইন্টারনেট