ফুসফুস বাঁচান

4

 

নগরীর ফুসফুসকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিন নিত্য নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালনও হচ্ছে স্বতস্ফূর্তভাবে। পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে দেশের গণমাধ্যম। বিশেষ করে, চট্টগ্রামের সংবাদপত্রসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে চলেছে। প্রতিদিন সংবাদ, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ও নাগরিক মতামতসমূহ গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে কিছুটা দূর থেকে হলেও এই যাত্রায় আমার সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছে অনায়াসে। সিআরবি সুরক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং নাগরিক সমাজের আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়ে ইতিপূর্বে লিখেছি সংবাদ মাধ্যমে। সিআরবি সুরক্ষা আন্দোলনের (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১) ৬৬তম দিন। ধারাবাহিক কর্মসূচিতে চলছে দেশাত্মবোধক বিপ্লবী সংগীত পরিবেশন ও বিক্ষোভ সমাবেশ। এক হৃদয়স্পর্শী প্রাণের টানে স্নেহধন্য শিশু সন্তান মাইশা সোহা ও মাশরুর সিয়াম কে নিয়ে স্বশরীরে ছুটে গিয়েছি প্রিয়াঙ্গনে। শিশুদেরকে নিয়ে গিয়ে আরও একটি বিষয়ে স্পষ্ট হলো সিআরবি সুরক্ষায় শিশুদের ভালবাসার অনুভ‚তি আর আমাদের মনের আকুতি এক ও অভিন্ন। করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন পর ফটিকছড়ির গ্রামীণ জনপদ ছেড়ে সদ্য শহরে আসা আমার ৮ বছর বয়সের তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ‘মাইশা সোহা’ শিরিষ তলায় টাঙানো বড়ো বড়ো ব্যানার দেখে আর মাইকে উচ্চস্বরে আওয়াজ শুনে আমার কাছে জানতে চায়- এইখানে কি হচ্ছে পাপ্পা ? তখন সহজ কথায় আমি শিশু সন্তানকে জানাই এই গাছগুলো কেটে এবং মাঠ দখল করে রেলের বড় অফিসারেরা হাসপাতাল তৈরি করতে চাচ্ছে। সাথে সাথে সে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, এত বড় বড় সুন্দর গাছ কেটে এবং খেলার মাঠ দখল করে হাসপাতাল করবে কেন, অন্য কোথাও জায়গা নেই! তখন সে আমাকে আবারও বলে, এইখানে হাসপাতাল হবেনা, অফিসারকে আমার কথা বলিও ! এইখানে আমরা বৈশাখী মেলা দেখব। এই বলে সাথে থাকা শিশুরা বড় ব্যানারে সামনে আমার পাশে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে এবং বসে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের নীরব প্রতিবাদ জানায়। ধর্ম বর্ণ, নির্বিশেষে শিশু, কিশোর ভেদে সকল আপামর জনগণের আজ শুধুমাত্র একটাই প্রত্যাশিত দাবি। বীর চট্টলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও নগরীর প্রাণস্পন্দন সিআরবি সুরক্ষিত থাকুক যুগ-যুগান্তরে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুর্বার গতিতে পৌঁছুক চট্টগ্রামবাসীর এক মর্মস্পর্শী আকুতি।