ফুটপাত দখলের অধিকার ওদের কে দিয়েছে?

22

নিজস্ব প্রতিবেদক

যতই আন্দোলন হোক, কাউকে অবৈধভাবে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে ছয় দফা দাবিতে সিটি মেয়র রেজাউল করিমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন পাঁচ হকার সংগঠনের নেতারা। হাজারখানেক হকার মিছিল নিয়ে বেলা ১২টার দিকে নগরীর টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে চসিক মেয়রের কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। টাইগারপাস মোড়ে পুলিশ আটকে দিলে তারা সেখানেই বসে পড়েন।
এ সময় টাইগারপাস থেকে কদমতলী অভিমুখী সড়কে প্রায় আধাঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশি তৎপরতায় হকার পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে মেয়র কার্যালয়ে গেলে মেয়রের একান্ত সচিব সেটি গ্রহণ করেন। মূলত, আবেদনে আসন্ন রমজানে ফের সড়ক-ফুটপাতে বসতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। একইসাথে পুনর্বাসন করার আগ পর্যন্ত বিকাল ৩টা থেকে রাত ১১টা এবং ছুটির দিন সারাদিন ব্যবসা করার সুযোগও চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
চট্টগ্রাম হকার্স ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম লেদু বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করে আমরা ১০-১২ হাজার হকার নিয়ে মিছিল সহকারে মেয়রের কার্যালয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের টাইগারপাস মোড় পার হতে দেয়নি। পরে সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মেয়রের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিই। আমরা সরাসরি মেয়রের হাতে সেটা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আমাদের সাক্ষাৎ দেননি।’
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, ‘হাজারখানেক হকার প্রথমে পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে সমাবেশ করে। পরে তারা মিছিল নিয়ে সিটি করপোরেশন ভবনের দিকে এগোতে চাইলে আমরা টাইগারপাস মোড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করি। এসময় তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর হকাররা কিছুক্ষণ সড়কে অবস্থান করে চলে যায়।’
এদিকে বিকেলে আদালত ভবন এলাকায় চসিকের এক অনুষ্ঠানে ফুটপাত রক্ষায় আবারও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের জনস্বার্থে উচ্ছেদ করেছি। অবৈধভাবে রাস্তা দখলের জন্য চাপ তৈরি করতে একটি মহল আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। কার আন্দোলন? কীসের আন্দোলন? জনগণের ফুটপাত দখল করার অধিকার ওদের কে দিয়েছে? যত আন্দোলনই হোক না কেন, আমি ফুটপাতে অবৈধভাবে হকারদের বসতে দেব না।’
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর নিউ মার্কেট মোড় থেকে নতুন রেলস্টেশন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, পুরাতন রেলস্টেশন, ফলমন্ডি, তামাকুমন্ডি লেইন ও আমতলসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে হাজারেরও বেশি হকার উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। এসব এলাকার ফুটপাত থেকে সড়কের একাংশ দখলে নিয়ে এসব হকার পোশাক, মোবাইল, জুতা, তৈরি খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছিলেন। ফুটপাত ও সড়কে বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকতো।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকাররা বিক্ষোভ করেছিলেন। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নিয়ে হকাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরদিন হকারদের কেউ কেউ আবারও বসতে চাইলে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। এরপরও হকাররা সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখলে নিতে শুরু করলে ১২ ফেব্রুয়ারি ফের অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। এসময় হকারদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাংচুর করা হয় সিটি করপোরেশনের যানবাহন। পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় হকারদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ অবস্থায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। হকাররাও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।