ফান্ড সংকটে বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা

62

ফারুক আবদুল্লাহ

করোনা মহামারিতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে গেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনার এ সময়ে তাদের বেতন নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় চিকিৎসক ও স¦াস্থ্যকর্মীদের গত সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। এমনকি অক্টোবর মাসের বেতন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে হাসপাতালের নার্সদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা প্রতিরোধের লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসকরা। এ সময়ও চিকিৎসকদের বেতন না হওয়া দুঃখজনক ও অমানবিক। সবার পরিবার-পরিজন ও তাদের খরচ রয়েছে। তাই মন্ত্রণালয়ের উচিত এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করে বেতনের ব্যবস্থা করা।
তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় সঠিক সময়ে বেতন হয়নি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট চলে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে।গত বছরও চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা তিনমাসের বেতন নিয়ে সংকটে পড়েছিল। তখন বাজেট সমস্যার পাশাপাশি আইবাস জটিলতার কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এবারও সেই সময়ের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কিনা এমন শঙ্কা চিকিৎসকদের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসকরা প্রতি মাসে ২০ তারিখের পর নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে বিল সাবমিট করে। এরপর হাসপাতালের উপ-পরিচালকের কাছে তা ফরওয়ার্ড করা হয়। আর পাঁচ দিনের মধ্যে বিল একাউন্টসে যায়। তারপর সেখান থেকে বেতন উত্তোলন করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বিল সাবমিট করেও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বিল বকেয়া পড়েছে। আর অক্টোবর মাসের বেতন পেতে সফটওয়্যারে বিল সাবমিট করতে পারছেন না। অর্থাৎ সার্ভারে বিল ইনপুট নিচ্ছে না। এ কারণে তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন যেমন হয়নি, তেমনি অক্টোবর মাসের বেতন পেতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একইভাবে হাসপাতালের চার শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরও বেতন হয়নি। তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। একইভাবে অক্টোবর মাসের বেতন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কমর্চারী রয়েছেন ৪২৩ জন। একইভাবে চিকিৎসক রয়েছেন ২৬৫ জন।
বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল বলেন, করোনার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের সঠিক সময়ে বেতন না হওয়া দুঃখজনক। অতিদ্রæত সময়ের মধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা দরকার।
তিনি বলেন, চিকিৎসা এমন একটা পেশা, রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশে থাকেন। তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা দিনের পর দিন সেবা দিয়ে যান। এমন সেবকদের পাশে থাকা সবার কর্তব্য।
হাসপাতালের একাউন্টস অফিসার মো. শাহজাহান বলেন, বাজেট না থাকায় বেতন হয়নি। তবে নার্সদের বেতন হয়ে গেছে। আর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা চলে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বেতন দেওয়া হবে।
চমেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন মানিক বলেন, চিকিৎসা খাতে বাজেট নেই। তাই সেপ্টেম্বরে বেতন হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে টাকা আসলে মনে হয় দুই মাসের বেতন একসাথে হবে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ট করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।