ফটিকছড়িতে বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার হলুদ ফুলের ঢেউ

6

মো. এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি

সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ মাঠ। বেশি লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছর ধরে সরিষা আবাদে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষকরা। চলতি রবি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার কোনো বিরূপ আচরণ দেখা না দেয়ায় বাম্পার ফলন আশা করছেন এখানকার কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাঠে-প্রান্তে যেদিকে চোখ যায় হলুদ রঙের সরিষা ফুলের চোখ ধাধানো বর্ণিল সমারোহে হৃদয়-মন তৃপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর মৌমাছিসহ সংগ্রহের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সরিষা ফুলের ঢেউয়ে দুলছে কৃষকের মন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা বারি সরিষা ১৪, ১৫, ১৮ এবং বিনা সরিষা ৯, ১১ চাষ করেছে।
কৃষকরা জানান, চলতি রবি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রকৃতি বৈরি আচরণ না করায় ফটিকছড়িতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যথাসময়ে ঘর তুলতে পারলে সরিষার ভাল বিক্রয়মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৩ বছরের মতো এবারও ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর এলাকায় সরিষা চাষ করেছেন মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি জানান, এবার ১৫ কানি সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি অফিস তাকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আগামী ১ মাস পর বিগত তিন বছরের তুলনায় আরো ভাল ফলন পাবে বলে আশা করছেন তিনি।
কথা হয় দৌলতপুর গ্রামের আরেক কৃষক জয়নাল আবেদীনের সাথে। তিনি বলেন, শুরুর দিকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও ওষুধ প্রয়োগ করে রোগ-বালাইমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে ভোজ্য তেলের যে চাহিদা রয়েছে আগামী চার বছরের মধ্যে সেই চাহিদার ৪০-৫০ শতাংশ মেটানো হবে সরিষার তেল দিয়ে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত বছর থেকেই সরিষার চাষ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ৩শ কৃষককে উন্নতমানের বীজ দেয়া হয়েছিল। এবার রবি মৌসুমে ২শ ৫২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ ছিল ১শ ৫ হেক্টর। তিনি আরো জানান, সরিষা চাষে কৃষকদের প্রতি কানি ৮ হাজার টাকা খরচ হলেও প্রতি কানি ৩২ হাজার টাকা লাভে বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।