ফটিকছড়িতে তরিকতে যোগদান করায় আ.লীগ নেতাকে মারধর

25

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনে যোগদান করায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে পুলিশের সামনে তিনি মারধরের শিকার হন। পরে পুলিশ গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। আহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন (৪০)। তিনি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো বাজার সরকার পাড়ার বাসিন্দা আবদুস সাত্তারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় বাঁশ-কাঠের ব্যবসায় জড়িত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন গত ১৫ দিন আগে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করেন। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ তার উপর ক্ষুব্ধ হন। শুক্রবার দুপুরে পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাংসদের উপস্থিতিতে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এসময় তরিকতের নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সাংসদ ত্রাণ দিয়ে চলে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জামালের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মুহাম্মদ জুয়েল, মো. মুজিব, মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ও মুহাম্মদ মিন্টুর বচসা হয়। কেন তরিকতে যোগদান করেছেন তার কাছে জানতে চান। এক পর্যায়ে তার উপর হামলে পড়ে মারামারিতে রূপ নেয়। এসময় জামালকে ব্যাপক মারধর করেন তারা। তার জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে উদ্ধার করেন। বিকেলে তিনি মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মিয়া মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘তরিকতে যোগদান করার অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে কিছু দুষ্কৃতিকারী মারধর করেছেন। আমরা মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘যারা হামলা করেছে তারা এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।