ফখরুল-আব্বাসহীন বিএনপির সমাবেশে নেতারা কে কি বললেন

9

ঢাকা প্রতিনিধি

ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত পুরনো ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকার গোলাপবাগ মাঠে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
তবে আটক দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ঢাকার সমাবেশের দায়িত্বে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসসহ আটক নেতাকর্মীদের আদালতে জামিন না হওয়ায় শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গতকালের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার কথা ছিলো।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ঢাকার সমাবেশের দায়িত্বে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসসহ আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করে সমাবেশে বিএনপির নেতারা গতকাল গোলাপবাগের সমাবেশ থেকে ১০ দফার ‘চার্টার্ড অফ ডিমান্ড’ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে কথার লড়াই থেকে সহিংসতার পর বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়লেও গোলযোগহীনভাবেই তা শেষ হল। এই সমাবেশ থেকে সরকার হটাতে ১০ দফা ঘোষণা করেছে দলটি।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বন্দি থাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১০ দফা ঘোষণা করে বলেন, এই ১০ দফা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দফা। এই দাবি জনগণের দাবি, এটা মানুষের দাবি। আমরা এদেশের সকল জনগণকে এই ১০ দফা দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আগামী ২৪ ডিসেম্বরে গণমিছিলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এই ১০ দফা উপস্থাপন করার কথা জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই দফাগুলো নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত ও সম্মতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে দুইদিন ধরে সকাল থেকে না খেয়ে (নেতাকর্মীরা) ঢাকা শহরে উপস্থিত হয়েছে। এরা সবাই জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে ঢাকায় এসেছে। জীবন দিয়ে হলেও বাংলাদেশকে তারা মুক্ত করবে। আজকে ঢাকা শহরে হরতাল পালিত হচ্ছে। কে ডেকেছে হরতাল? সরকার। সরকার হরতাল ডেকেছে। গাড়ি ঘোড়া নাই, বন্ধ, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিকেটিং করছে। ঢাকা শহরে প্রবেশপথে পিকেটিং করছে হাতে মাল (অস্ত্র) নিয়ে। এরা পিকেটিংয়ের চেয়ে আরও বেশি কিছু করেছে।
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে বলেন, তারা (সরকার) বলে, নয়া পল্টনের সড়কে যদি বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়, তাহলে না কি জনদুর্ভোগ হবে। অথচ পাঁচদিন যাবত পল্টনের রাস্তা দিয়ে মানুষ যেতে দেয় না, গাড়ি চলে না, দোকানপাট, বিপণি বিতান, মার্কেট বন্ধ। এই দুর্ভোগ কে সৃষ্টি করল?
আমরা আগে বলেছি, আমরা কোনো কাজ রাতে করি না, দিনে করি। আমরা কোনো কাজ গোপনে করি না, প্রকাশ্যে করি। আমরা বলেছি ১০ তারিখে সমাবেশ থেকে বলব, আপনারা কোন পথে যাবেন, আর যদি না যান আপনাকে তাড়ানোর জন্য, বিদায় দেওয়ার জন্য আমরা সক্রিয়-সচেষ্ট হব।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহŸায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সফল করে আপনারা আজকে সরকারকে সমুচিৎ জবাব দিয়েছেন। এজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই, সালাম জানাই। একই সঙ্গে বলতে চাই, স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত জানাতে চাই, এই সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আপনারা যার যার বাড়িতে চলে যাবেন।
সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের প্রথম দাবি হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। তাই আমরাই শুরু করলাম। আমরা দেখিয়ে দিলাম এই সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই, কোনো বৈধতা নেই, জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের পদত্যাগ তাই নতুন আন্দোলন সূচনা করল।