
ডা. সোমা চৌধুরী
প্রসবের পর ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত মা ও শিশুর যত্নই প্রসব পরবর্তী যত্ন। এ সময়ে মায়ের শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো হলো-
পুষ্টিকর খাবার : কোনও খাবার বাদ না দিয়ে ভাত, মাছ, শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাংস, দুধ, ফল সব রকমের খাবার মাকে দিতে হবে। স্তন্যদানকারী মায়ের অতিরিক্ত ক্যালরির চাহিদা মেটাতে সব খাবার আগের চেয়ে পরিমাণে বাড়িয়ে খেতে হবে। পুষ্টিকর খাবার মায়ের ক্ষয়পূরণ করবে এবং বাচ্চাও পর্যাপ্ত দুধ পাবে।
এছাড়া প্রচুর পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। আরামদায়ক পোশাক পরিধান করতে হবে।
যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা : অনিরাপদ সহবাসের কারণে অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ সহ অন্যান্য অনেক জটিলতা সৃষ্টির ফলে নারীস্বাস্থ্য হুমকিতে পরে। এজন্য প্রসবের পর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির জন্য নিকটস্থ সেবাদানকারী, সেবাকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। এ সময়ে অনেক মা বিষন্নতায় ভোগে। পরিবার এবং স্বামীর সাহায্য সহযোগিতা মাকে ভালো রাখতে পারে।
জন্মের পর পর নবজাতকের নাড়ির গতি, শ্বাস, গায়ের রং, নড়াচড়া, তাপমাত্রা, দুধপান, প্রস্রাব-পায়খানা; এ বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রসব পরবর্তী মায়ের বিপদচিহ্ন : তীব্র জ্বর, বেশি ফোলা ভাব, মাথা ব্যথা, ঝাপসা দেখা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত রক্তস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব, খিঁচুনি, প্রচন্ড পেট ব্যথা, চেতনা হারানো, অতিরিক্ত দুর্বলতা, প্রস্রাবে যন্ত্রণা। এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অনেকের ধারণা, বাচ্চা ডেলিভারির পর মায়ের বাড়তি কোন যতেœর প্রয়োজন নেই। এটি ভুল। সুস্থ শিশু ও সুস্থ মায়ের জন্য এ সময়ে সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সেবা নিতে হবে। আয়রন, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে এবং মা ও শিশুর যত্নে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
লেখক: গাইনোকোলজিস্ট



