প্রবাসীর মেধাবী সন্তানরা পাচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি

13

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানরা শিক্ষাবৃত্তি পাবে। এসএসসি সমমান ও এইচএসসি সমমান দুই ক্যাটাগরিতে এই শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে। এসএসসি সমমান শিক্ষার্থীরা পাবে বার্ষিক ৩১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এইচএসসি/সমমানে পাস শিক্ষার্থী বার্ষিক ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। গত ১৮ এপ্রিল থেকে এই শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রবাসী সন্তানদের যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক অথবা ডিপ্লোমা (প্রথম সেমিস্টার) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মূলত তারাই এ আবেদনের যোগ্য হবেন। একই সাথে ২০২০ সালে এইচএসসি/সমমান ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়/মেডিকেল (প্রথম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত তারাও অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ গ্রেড অথবা বাণিজ্য ও মানবিকে ৪.৭৫ গ্রেডে উত্তীর্ণ হতে হবে। মারা যাওয়া প্রবাসী সন্তানদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, বাণিজ্য কিংবা মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ গ্রেডে পাস করলেও আবেদনের যোগ্য হবেন। অপরদিকে এসএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষার তুলনায় এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় পাসের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৪.৮০ গ্রেড অথবা বাণিজ্য এবং মানবিকে ৪.৫০ গ্রেডে উত্তীর্ণ হলে তারা আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী মৃত হলে তার সন্তানের পাসের গ্রেডে বিজ্ঞান, বাণিজ্য কিংবা মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ গ্রেডে উত্তীর্ণ হলে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন পাঠানোর ঠিকানা, পরিচালক (আইআরপি) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, ৯ম তলা, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা-১০০০।
এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে মোবাইল নম্বর এবং তার মাতা/পিতার মোবাইল নম্বর অবশ্যই আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। এসএসসি কিংবা সমমান ক্যাটাগরিতে বৃত্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা এবং ডিপ্লোমা শ্রেণিতে অধ্যয়নরতরা চার বছর মাসিক দুই হাজার টাকা এবং এইচএসসি/সমমান ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয় (প্রথম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত ৪ বছর ও মেডিকেলের জন্য ৫ বছর মাসিক দুই হাজার পাঁচশত টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সেশনজট বিবেচনায় আনা হবে না। একই সাথে এসএসসি কিংবা সমমান ও এইচএসসি/সমমান ক্যাটাগরিতে বৃত্তির সাথে বছরে এককালীন বই ও শিক্ষা উপকরণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ যথাক্রমে আরো সাড়ে তিন হাজার ও চার হাজার মিলে সাড়ে ৭ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রবাসী মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কার্যক্রমে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের মধ্যে যারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ এবং বাণিজ্য ও মানবিকে জিপিএ-৪.৭৫ প্রাপ্ত হয়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে তারাই এ বৃত্তির আওতায় আসে। তবে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানগণ জিপিএ-৪ প্রাপ্ত হলে আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পিইসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী বছরে ১৪ হাজার টাকা করে তিন বছর, জেএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী ২০ হাজার ৫০০ টাকা করে দুই বছর, এসএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী সাড়ে ৩১ হাজার টাকা করে দুই বছর এবং এইচএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করলে বছরে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা করে ৪ বছর এবং মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী একই পরিমাণ টাকা ৫ বছর ধরে বৃত্তি পাবে। শিক্ষার্থীর আবেদনের পর চেকের মাধ্যমে এ বৃত্তি প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার পূর্বদেশকে জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্তৃক এ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর আবেদন যাচাই-বাছাই করে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির টাকা তুলে দেওয়া হবে। ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান এবং ২০২০ সালের এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এবার আবেদন করতে পারছে। আবেদনের নিয়মাবলী ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইটে রয়েছে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।