প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়

3

 

থামছেনা মহামারি করোনা। সরকার কঠোর-শিথিল লকডাউনসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ করেও এ ভাইরাসের তান্ডব রুখতে পারছেনা। নানা বিধিনিষেধের ফলে দেশের কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, বেকার ও গরিব মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। সেইসাথে সংকুচিত হচ্ছে কর্মক্ষেত্র। এ অবস্থায় একটি উদীয়মান মধ্যম আয়ের দেশ যেখানে ভ‚মির তুলনায় মানুষ বেশি-সেখানে কোটি মানুষকে সরকারি, খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়া কঠিন বিষয় বটে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অসম্ভব বিষয়টি সম্ভব করে দেখিয়ে আসছেন গত প্রায় দেড় বছর যাবৎ। এ দেড় বছরে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ নি¤œ আয়ের মানুষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা, ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার করোনার তৃতীয় ঢেউ-এ ক্ষতিগ্রস্ত নি¤œ আয়ের মানুষের সহায়তার জন্য ৩ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের সহায়তা প্যাকেজ সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটে বারবার। এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দফায় দফায় লকডাউন এবং বিধিনিষেধের মতো অমানবিক অথচ বাস্তব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে হয়েছে সরকারকে। আর এতে দেশের প্রায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ কমবেশি ক্ষতির শিকার হলেও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গরিব বা নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের যন্ত্রণার সামান্য কিছু উদাহরণ আমরা গণমাধ্যমে দেখলেও তার পুরো চিত্রই থেকে গেছে মানুষের চোখের আড়ালে। অনেকে ভাবতেও পারবে না, কতটা নিদারুণ কষ্ট আর যন্ত্রণায় করোনার এই বিভৎস সময় তারা পার করছে।তাদের সেই কষ্ট আর যন্ত্রণা পুরোটা নাহলেও কিছুটা লাঘবের সুযোগ তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধরনের উদ্যোগগুলো।
তিনি করোনাকালে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এবারসহ চতুর্থ দফা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আমরা জেনেছি, ৫টি নতুন প্যাকেজের ৩ হাজার ২শ কোটি টাকার এ বরাদ্দ দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে সরাসরি অর্থ সহায়তা হিসাবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শহর এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তায় দুই সপ্তাহ ধরে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একইভাবে খাদ্য সহায়তা পেতে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা সাধারণ মানুষের জন্য সারাদেশের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেও খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, গ্রামে কর্মসৃজনমূলক কার্যক্রমের তৈরিতে কম সুদে ঋণ (৪ শতাংশ সুদে) দিতে নতুন করে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসবের বাইরে কম সুদে ঋণ দিতে পর্যটন খাতের হোটেল, মোটেল, থিমপার্কের জন্য কর্মচারীদের পাশেও দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এমন ভালো উদ্যোগও অনেক সময় কিছু ব্যক্তি তাদের স্বার্থ পূরণের সুযোগ হিসেবে নিয়ে দুর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয় নেন। যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর চমৎকার এক উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য জমিসহ ঘর উপহার। ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভ‚মিহীন থাকবে না’- এমন অঙ্গিকারে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ পরিবারকে ২ শতাংশ জমিসহ ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে লক্ষাধিক পরিবারের কাছে তা হস্তান্তরও করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে আমরা যা দেখেছি, দেশ ও জাতির জন্য খুবই লজ্জাকরই মনে হল। বহু জায়গায় ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কি ঘর পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তা ভেঙে পড়া বা ফাটল ধরার ঘটনাও ঘটেছে। কারণ সেসব ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার নিজ দলের সংসদ সদস্য বা দলীয নেতাকর্মীদের এ প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত না করে আমলাদের দিয়েই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অবস্থা দেখে বিশ্বাস করতেই হল যে ‘যায় লংকায় সেই হয় রাবন’। তবে আশার কথা, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আমরা মনে করি, এমন সব উদ্যোগে কোনোভাবেই অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিৎ নয়। বিশেষ করে অসহায় গরিব মানুষের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্যাকেজ সত্যিকার অর্থে গরিব অসহায় মানুষের কাছে যাবে-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।