প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে

29

রাহুল দাশ নয়ন

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ ডিসেম্বরের জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আগেভাগেই ব্যানার-পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে বন্দরনগরী। পলোগ্রাউন্ডে নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে ১৬০ ফুট দৈর্ঘের মঞ্চ। যেখানে একসাথে ২০০ অতিথি বসতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারে পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকায় লাগানো হবে ঢাকা থেকে আনা ‘কলরেডি’র ১৫০ মাইক। জনসভার বাকি আরও ৯ দিন থাকলেও এভাবেই প্রধানমন্ত্রীকে বরণে বিরাট আয়োজন চলছে চট্টগ্রামে। এদিন ১০ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা করতে আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক প্রস্তুতি সভা করে জনসভা সফল করতে কাজ করছে। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ঢাকার বিখ্যাত মাইক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কলরেডির ১৫০টি মাইক লাগানো হবে। মঞ্চ তৈরি করছেন সাহাবউদ্দিন ডেকোরেটার্স।
মঞ্চ তৈরির কাজে নিয়োজিত সাহাবুদ্দিন ডেকোরেটার্সের স্বত্ত¡াধিকারী মো. সাহাবউদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, নৌকার আদলে ১৬০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চটি তৈরির কাজ চলছে। মঞ্চের মাঝখানের ৪০-৮০ ফুটের মধ্যে ২০০ অতিথি বসবেন। মঞ্চের উচ্চতা হবে সাত ফুট। এছাড়াও মঞ্চের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ভিআইপি ও মহিলাদের বসার জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।
২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর একই মাঠে আবারও ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই এ জনসভা সফল করতে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা। ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ সমাবেশে যোগদান করবেন। এক একটি ওয়ার্ড থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ আসবেন। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থকরা যোগ দিবেন জনসভায়। পলোগ্রাউন্ডের বাইরে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো হবে মাইক।’
পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা হলেও প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রবেশস্থানে বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে বিশালাকার বিলবোর্ড তুলেছেন নেতারা। এছাড়াও ভাটিয়ারী থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পর্যন্ত যে স্থান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী গাড়িযোগে চলাচল করবেন সেদিকের রাস্তার দুই পাশে লাগানো হয়েছে বিলবোর্ড, ব্যানার-প্লেকার্ড। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারকে সাজানো হয়েছেন নবরূপে। বিভাজকসহ পুরো ফ্লাইওভার নতুন করে রাঙানো হয়েছে। জনসভাস্থলে সুপেয় পানি, ভ্রাম্যমাণ অস্থায়ী টয়লেট স্থাপনসহ নগরীকে সাজাতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের গৌরবময় ভূমিকা আছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও হয়তো চট্টগ্রামবাসীকে নিরাশ করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’