প্রথম ১০০ দিন দেশবাসীকে মাস্ক পরতে বলবেন বাইডেন

10

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজের মেয়াদের প্রথম ১০০ দিন দেশের সব মানুষকে মাস্ক পরতে বলবেন। তার বিশ্বাস, শুধু মাস্ক পরেই কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিস্তার অনেকটা হ্রাস করা সম্ভব। বৃহস্পতিবার সিএনএন কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, ‘‘যদি প্রতিটি আমেরিকান মাস্ক ব্যবহার করেন তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।” ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সরকারি ভবনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেবেন বলেও জানান তিনি। আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তারমধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট এবং ‘থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’র ছুটিতে প্রচুর মানুষ ভ্রমণে বের হওয়ায় দেশটিতে মহামারী পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। ওইদিন মারা গেছেন ২, ৭৬০ জন। এর আগে মহামারীর প্রথম ধাপে গত ১৫ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ ২, ৭৫২ জন মারা যান। দেশটিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ কোটি ৪১ লাখের বেশি মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মোট মৃত্যু ১৫ লাখ ৫ হাজারের বেশি।
সিএনএনকে বাইডেন বলেন, ‘‘প্রথম দিন আমার অভিষেকের পর আমি জনগণকে ১০০ দিনের জন্য মাস্ক পরার কথা বলতে যাচ্ছি। শুধুমাত্র ১০০ দিন, তার বেশি নয়। একশ দিন। ‘‘এবং যদি আমরা সেটা করতে পারি; তবে আমার মনে হয় তাতেই সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা সম্ভব হবে।
যদি টিকা গ্রহণের সঙ্গে মাস্কও ব্যবহার করা হয় তবে রোগের বিস্তার অনেক কমে যাবে।” যদিও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট জনগণকে মাস্ক পরার নির্দেশ দিতে পারেন না। কিন্তু বাইডেন বলেন, তিনি এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সবসময় মাস্ক পরে একটি উদাহরণ তৈরি করবেন। জনগণকে নির্দেশ দিতে না পারলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তিতে এ আদেশ জারি করতে পারবেন। বাইডেন জানান, তিনি তার ওই ক্ষমতার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। বলেন, ‘‘ফেডারেল ভবনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে আমি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছি।
‘‘উড়োজাহাজে এবং বাসে যাতায়াত, এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাতায়াত করতেও আপনাকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।”
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সব এয়ারলাইন্স, বিমানবন্দর এবং সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থায় এরই মধ্যে সব যাত্রী ও কর্মীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই পরিবহণ ব্যবস্থায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সেই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে বলেছিল, এটা ‘অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ’ হয়ে যায়।