প্রতিরোধে প্রয়োজন

41

সর্দি-জ্বর বৃষ্টির সময়কার একটি সাধারণ রোগ। সর্দি-জ্বর দেহের শ্বাসনালীর ভাইরাসজনিত এক ধরনের সংক্রমণ। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ রোগ বেশি দেখা যায়। কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন লোকদের এ রোগ বেশি হয়। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। আর সময়টা যেহেতু মহামারি করোনার। এসময় সব কিছুতেই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলেন-
সর্দি-জ্বর হলে প্রথমে নাকে ও গলায় অস্বস্তি লাগে, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে। নাক বন্ধও থাকতে পারে। মাথাব্যথা, মাথা ভারী বোধ হওয়া, শরীরে ব্যথা, হালকা জ্বর, গলাব্যথা প্রভৃতি উপসর্গও দেখা যায়।
কখনো কখনো চোখ লাল হতে পারে এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরতে পারে। এমন হলে প্রথমেই নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে নিন। সর্দি-জ্বরের সময় বিশ্রামে থাকতে হবে, বাইরে যাওয়া যাবে না। ঘরে থাকলেও কারো সঙ্গে কথা বলা বা কেউ আপনার রুমে কিছু দিতে এলে মাস্ক ব্যবহার করুন ও অন্তত এক মিটার দূরে থাকুন।
সাধারণ খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পানি, লেবুর রস, আনারস, পেয়ারা বা আমলকী জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা জাতীয় খাবার (আইসক্রিম, ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয় খাওয়া যাবে না। বারবার গরম চা বা কফি খাওয়া যেতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর ও ব্যথানাশক প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ কয়েক দিন খেলেই ভালো হয়ে যায়। তবে সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে।
সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। স্বাস্থ্যকর, খোলামেলা, শুষ্ক পরিবেশে বসবাস করতে হবে এবং বিরূপ পরিবেশে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এসময় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি থেকে দূরে থাকতে হলে অতিরিক্ত গরম, এসির ঠান্ডা ও ধুলাবালি যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। সাবান দিয়ে ভালো করে বারবার হাত ধুয়ে নিন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। করোনার এই সময়ে ছোট শারীরিক সমস্যাও অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করতে হবে।