প্রকৌশলগত ‘যথার্থতা’ পরীক্ষায় ৫ লাখ টাকা চায় চুয়েট

25

 

বাকলিয়া এক্সেস রোড প্রকল্পে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভয় ২০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বাব-ই- ইউসুফ তথা ‘কর্নেল ভবন’ ভেঙে রাস্তা করতে গেলে ভবন মালিককে দিতে হবে ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ভবনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪ কোটি এবং জায়গার মূল্য হিসেবে ৬ কোটি টাকা। কিন্তু ভবন না ভেঙে এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে খরচ হবে ১৩ কোটি টাকা। সাশ্রয় হবে ৭ কোটি টাকা।
এরই মধ্যে সম্প্রতি সিডিএ’র গঠিত তদন্ত কমিটির তরফে প্রতিবেদনে রাস্তার এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের সুপারিশ আসে। এরপর পরিবর্তিত এলাইনমেন্টর প্রকৌশলগত যথার্থতা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শরণাপন্ন হয় সিডিএ। এ নিয়ে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সেখানে পাঠানো হয়। চুয়েটের শিক্ষক ড. নুসরাত হক স্বাক্ষরিত একটি ফিরতি চিঠি গত ৭ জানুয়ারি সিডিএ’র কাছে পাঠানো হয়। এতে রাস্তার এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের জন্য ড্রয়িং ও ডিজাইনের প্রকৌশলগত যথার্থতা পরীক্ষা (ভেটিং) করে দেখার জন্য সিডিএ’র কাছে ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন বলেন, রাস্তার এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ড্রয়িং ও ডিজাইন ভেটিং এর জন্য আমরা চুয়েটের কাছে যে প্রতিবেদন চেয়েছি তার খরচ বাবৎ তারা আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এ টাকা ছাড় করার ক্ষেত্রে সিডিএ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
এদিকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে বাকলিয়া থানা পর্যন্ত (বহদ্দারহাট শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক) প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের সড়ক নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের আগস্টে। সিরাজউদ্দৌলা রোডের চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পাশে আয়েশা খাতুন লেইন (প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের বাড়ির পাশ ঘেঁষে) দিয়ে আড়াআড়িভাবে গিয়ে রাস্তাটি চাক্তাই খাল পার হচ্ছে। খালের উপর ৬০ ফুট চওড়া ব্রিজও থাকবে। ডিসি রোড থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণে বেঁকে বগার বিল, সৈয়দ শাহ রোড অতিক্রম করে বাকলিয়া থানার পাশে গিয়ে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কে যুক্ত হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত: ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। বাকলিয়া থানার পাশ থেকে শুরু হওয়া সড়কের কাজ চলতি বছর জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ডিসি রোডে মৌসুমী আবাসিক এলাকায় সিডিএ’র অনুমোদন নিয়ে গড়ে ওঠা ১০ তলা একটি ভবন রাস্তাটির জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়ায়। এ ভবনের কারণে ২শ ৫ কোটির টাকার প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ভবনটি নির্মাণ করেছে হাজী চাঁন্দমিয়া সওদাগর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। এই কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ইকবাল। বাব-ই-ইউসুফ নামের ভবনটিতে ৩৭টি বিভিন্ন সাইজের ফ্ল্যাট রয়েছে। এগুলো পৃথক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ওই সময় একসাথে আরো পাঁচটি ভবনের অনুমোদন নিয়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বিক্রি করা হয়। ওই ভবনগুলো রাস্তার এলাইনমেন্টের বাইরে থাকায় সমস্যা হচ্ছে না। বিপত্তি শুধু এ ভবনকে ঘিরেই।
ভবনটি কিভাবে নির্মিত হলো তা নিয়ে অনুসন্ধান হয়েছে কয়েকবার। হয়েছে তদন্তও। সর্বশেষ ভবনটি না ভেঙে রাস্তার এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ আসার পর তা চুয়েটের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু চুয়েটের মতামতের।
১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে রাস্তা হিসেবে নির্ধারিত জায়গায় ভবনটি কিভাবে অনুমোদন পেল তা রহস্য হয়ে থাকলেও ভবন না ভেঙে রাস্তার ঘুরিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- ভবন না ভাঙার নজির একবার তৈরী হয়ে গেলে তা ভবিষ্যতের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। মাত্র ৭ কোটি টাকা সাশ্রয়ের জন্য চউক এ ধরনের নজির সৃষ্টি করবে কিনা তাও চিন্তার করার বিষয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে একটি ভবন নিয়ে ২০ কোটি টাকা গচ্চা দেয়ার বিষয়টিও সিডিএ’র জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতির কারণ বলছেন কর্মকর্তারা।