প্রকৃতি ও পরিবেশের সমন্বয়ে অনিন্দ্যসুন্দর নগর গড়া সম্ভব

14

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম হচ্ছে প্রকৃতিগতভাবে সৌন্দর্য্যমন্ডিত শহর। এই শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় এটির সৌন্দর্য্য এখন ভুলুন্ঠিত। আমি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। চট্টগ্রাম শহরের ওয়ার্ডগুলোতে যেখানে খালি বা উন্মুক্ত জায়গা আছে সেখানে ছোট বড় খেলার মাঠসহ শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য নানা সরঞ্জামসহ পার্ক স্থাপনের বিষয়টি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ভূ-সম্পত্তি শাখা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের প্রকৌশল শাখাকে খালি জায়গা চিহ্নিতকরণ ও স্থান বুঝে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি নগরের সৌন্দর্য তখনই চোখে পড়ে যখন প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সমন্বয় হয়। সে কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের অবয়ব ও পরিবেশের সাথে ভারসাম্য রেখে বিনোদনযোগ্য করতে পারলে তা প্রকৃত অর্থে সৌন্দর্য্যরে অধিকারী হয়।’ মেয়র গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি আর্কিটেক্ট প্রতিনিধিদল কর্তৃক চসিকের উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপনকালে একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা, কামরুল ইসলাম, ঝুলন কুমার দাশ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আর্কিটেক্ট প্রতিনিধি দলের ইকবাল হাবিব, ইসতিয়াক জহির, ওয়াসিম ইদার, চসিক নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, ফরহাদুল আলম, আশিকুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক, শাহিনুল ইসলাম, ফারজানা মুক্তা ও স্থপতি আব্দুল্লাহ আল ওমর। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আর্কিটেক্ট প্রতিনিধি দল আগ্রাবাদ ডেবা, জোড় ডেবা, ভেলুয়ার দিঘী, বহদ্দার পুকুর, বহদ্দার বাড়ি জামে মসজিদ পুকুর, চর চাক্তাই স্কুল সংলগ্ন মাঠ, ফিরোজ শাহ ঈদগাহ মাঠ, ফরেষ্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, শহীদ শাহাজাহান সংঘ মাঠ, পলোগ্রাউন্ড কলোনী মাঠ, হালিশহর এ-ব্লক, বি-ব্লক, এইচ-ব্লক, হালিশহর শিশুপার্ক জে-ব্লক, ৩৯নং ওয়ার্ডের বক্স আলী রোড, পোস্তারপাড় থেকে দেওয়ানহাট ব্রীজের নীচ পর্যন্ত, হালিশহর বিডিআর মাঠ, আউটার স্টেডিয়াম, সিআরবি হিলের সৌন্দর্য্যবর্ধন করার প্রস্তাব দেন। এতে খসড়া ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৭৬ কোটি টাকা। মেয়র তাদের প্রস্তাবের আলোকে বলেন, প্রস্তাবিত স্থানগুলো বেশিরভাগই অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সকল সেবা সংস্থার সাথে মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে বলে জানান। প্রস্তাবিত স্থানগুলোর সাথে বাটালি হিল, ঠান্ডাছড়িকে যুক্ত করার জন্য মেয়র আর্কিটেক্ট দলকে আহব্বান জানান। তিনি নগরবাসীর জন্য স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একটি নতুন সামঞ্জস্যপূর্ণ ভবিষ্যত নির্মাণের রূপরেখা বলে উল্লেখ করেন। নগরীর উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশন উপস্থাপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আর্কিটেক্ট প্রতিনিধি দল। বিজ্ঞপ্তি