পেকুয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সামনে হামলা, আহত ৭

2

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়ায় এবার সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় অন্ততঃ ৭ জন কৃষকসহ নারী-শিশু আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, সদর ইউনিয়নের বকসু চৌকিদারপাড়ার আবু ছৈয়দের পুত্র কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির পেকুয়া সদরের সভাপতি মো. শাহজাহান (৫০), মাহামুদুল করিমের পুত্র বিজিসি ট্রাস্টের এলএলবির ছাত্র মারফুল করিম (২২), পেকুয়া জিএমসির ৯ম শ্রেণির ছাত্র মুবিন (১৪), বিএমআইর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহবিনুল করিম সারজিম (১৮), জন্নাত আরা বেগম (২৫), তার ১৬ মাস বয়সী শিশুপুত্র নওশাদ ও মৃত গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৫)।গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জালিয়াখালীর স্কুলঘোনা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ফসলী জমিতে শ্রেণি পরিবর্তন করে লবণ মাঠ তৈরিকে কেন্দ্র করে মূলত এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূম্পা ঘোষ খালে মিষ্টি পানির উৎস থেকে আটকানো একটি বাঁধ অপসারণ করতে দুপুরের দিকে ওই স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলার ভূমি অফিসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, পেকুয়া থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে উত্তেজিত লোকজন প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হয়। এর জের ধরে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা দুবৃর্ত্তরা দেশীয় তৈরি ধারালো দা, কিরিচ, লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ঘটনার জের ধরে সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশের ১, ৩ নং ওয়ার্ডের বকসু চৌকিদারপাড়া, জালিয়াখালীর গ্রামবাসীর মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সন্ধ্যার দিকে সৃষ্ট ঘটনার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ দু’দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী স্কুলঘোনা নামক বিলে সম্প্রতি লবণ মাঠ তৈরি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিন ফসলী জমিতে শ্রেণি পরিবর্তন করে একটি চক্র লবণ মাঠ করত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ইউএনও পেকুয়াসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার দিন দুপুরে পেকুয়ার ইউএনও চাই থোয়াইহলা চৌধুরীর নির্দেশে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূম্পা ঘোষ, পেকুয়া থানার পুলিশ ও ইউপি সদস্যসহ গ্রাম পুলিশ নিয়ে ওই জনস্বার্থ বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এমনকি জালিয়াখালী পয়েন্টে খাল থেকে একটি বাঁধ অপসারণ করেন। এর জের ধরে জালিয়াখালীর নুরুল ইসলামের পুত্র জিয়াবুলসহ তার অনুগত ৪০/৫০ জনের উত্তেজিত লোকজন এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় লবণ মাঠের বিপক্ষে অবস্থানকারী জমির মালিক শাহজাহানসহ ৭ জন আহত হয়েছে। পেকুয়া থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএস আই) রতন জানান, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। আসার পর শুনেছি মারপিট হয়েছে। সদর ইউপির সদস্য নুরুল আজিম জানান, কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এখানে আসেন। আহত শাহজাহান জানান, আমি কমিউনিটি পুলিশের পেকুয়া সদরের সভাপতি। এ বিলে আমাদের ৭ একর জমি আছে। এ জমিগুলি লবণ মাঠ করার চক্রান্ত করছিল। আমরা প্রতিবাদ করছি। এসিল্যান্ড মহোদয় বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় তারা কিরিচ, লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। প্রশাসনের উপস্থিতিতে এ হামলা করা হয়। আমি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। তারা গিয়ে সেখানে আক্রমণ করে।
পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুম্পা ঘোষ তার উপস্থিতিতে হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মিঠা পানির চ্যানেলে একটি কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে কৃষকদের বোরো আবাদ ব্যাহত করতে গুটিকয়েক ব্যক্তিরা একাজ করে। আমরা বাঁধ অপসারণ করেছি। পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ছিল এ অভিযান।