পুরোদমে জ্বালানি তেল খালাস শুরু ডিসেম্বরে

16

ফারুক আবদুল্লাহ

ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষে গভীর সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে জাহাজ থেকে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাস আগামী ডিসেম্বর মাসে পুরোদমে শুরু হবে। এর আগে ৪ নভেম্বর ক্রুড অয়েল এবং ৯ নভেম্বর ডিজেল খালাস কার্যক্রম পরীক্ষামূলক চালু হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পটিতে গত জুলাই মাসে আরও একবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু হয়েছিল। কিন্তু পাইপলাইনে নানা ত্রুটি ও অদক্ষতার কারণে সে সময় তেল খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ করছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি অক্টোবরের মধ্যে সংযোজন করা হবে। এরপর ৪ নভেম্বর ক্রুড অয়েল এবং ৯ নভেম্বর ডিজেল খালাস পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে পুরোদমে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছি।
ইআরএলের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে সরকারিভাবে সমুদ্রপথে ৬০ লাখ টনেরও বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর বাইরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফার্নেস তেলসহ প্রায় এক কোটি টন তেলের প্রয়োজন হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের নাব্যতা কম হওয়ায় মাদার অয়েল ট্যাংকারগুলো সরাসরি খালাস করা সম্ভব হয় না। এর ফলে এসব ট্যাংকার গভীর সমুদ্রে নোঙর করে ছোট ছোট লাইটারেজ ভেসেলের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল খালাস করা হয়। তাতে এক লাখ ডিডব্লিউটি ট্যাংকার খালাস করতে লেগে যায় ১১ দিন। এ পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় এইচএসডি স্থানান্তরের জন্য ২০১৫ সালে পাইপলাইন বসানোর প্রকল্পটি (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) হাতে নেওয়া হয়। মোট ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ইতোমধ্যেই প্রকল্পের মেয়াদ তিনবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এ প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের কুতুবদিয়া থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে সারাদেশে তেল সরবরাহে গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বছরে অন্তত ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার টন তেল খালাসে সময় লাগছে ১২ দিন। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় তা সম্পন্ন করা যাবে। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা বাড়বে।
উল্লেখ্য, মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপন করা হয়েছে। এসপিএম থেকে ৩৬ ইঞ্চি ব্যসের দুটি আলাদা পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আনলোডিং করা হবে। ১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেই পাইপলাইন প্রথমে নিয়ে আসা হবে কালারমারছড়ায় সিএসটিএফ বা পাম্প স্টেশন অ্যান্ড ট্যাঙ্ক ফার্মে। সেখান থেকে বিভিন্ন পাম্পের মাধ্যমে ৭৪ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল চলে যাবে আনোয়ারার সমুদ্র উপকূলে। সেখান থেকে আবার ৩৬ কিলোমিটার পাইপলাইন পাড়ি দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়া হবে পতেঙ্গায় ইআরএলের রিফাইনারিতে।