পুনঃদখল ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ চাই

8

বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম নগরীর সবকটি সড়ক ও ফুটপাত পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্ত হয়েছে। অনেক ফুটপাত নতুন এবং টাইলসসমৃদ্ধ হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, এক্সেস রোড, লিংরোডসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। উদ্দেশ্য নগরীকে যানজটমুক্ত করা। কিন্তু সর্বশেষ দেখা যায়, উড়াল সড়ক ছাড়া সবগুলো সড়কই হকার, দোকানদার ও গাড়ির পার্কিং-এর দখলে চলে যায়। ফলে ‘যেই লাউ সেই কদু’। সড়ক নির্মাণ, প্রশস্ত কিংবা সংস্কারসহ চকচকে ফুটপাতগুলোতে পথচারিদের হাঁটার উপযুক্ত থাকেনা। গাড়ি আর হকার সমান তালে দখল করে রাখে এসব সড়ক। এর পাশাপাশি রয়েছে উম্মুক্ত ডাস্টবিন। সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের বাইরে ব্যবসায়ী কিংবা বাসা বাড়ির লোকজন যেখানে ইচ্ছে সেখানে ময়লা ফেলেন। এ অবস্থায় অনেক জায়গায় নগরবাসীকে নাকে হাত দিয়ে কোনভাবে সড়ক পার হতে হয়। নগরীর ঐতিহ্যবাহী অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় এবং ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠানটির চারদিকে ফুটপাতের সাথে তিনটি উম্মুক্ত ডাস্টবিন যেখানে পচাগন্ধ শাকসব্জি থেকে শুরু করে সব দূষিত আবর্জনা ফেলা হয়, এর পাশাপাশি পথচারি, দোকানের কর্মচারি আর টেম্পো চালক-হেলপারদের খোলা প্রস্রাব এমনকি রাতের বেলায় মলমূত্রও ত্যাগ হয় স্কুলটির ডাস্টবিনের পাশে। এ বিড়ম্বনার সাথে পশ্চিম পাশে সড়কের উপর রয়েছে টেম্পো স্ট্যান্ড। যাদের কাছে কোন ট্রাফিক সিস্টেম নেই। স্কুলটির অনেক অভিভাবক, শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় টেম্পো ও অবর্জনার স্ত‚পে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জানা যায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোন বিহিত ব্যবস্থা অদ্যাবদি হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশে যদি এ চিত্র হয়, অন্য জায়গায় কি অবস্থা ধারণা করা যায়। আশার কথা সিটি কর্পোরেশন গত বৃহস্পতিবার নগরীর মূল কেন্দ্র নিউমার্কেট মোড়, স্টেশনরোড, জুবলি রোড, নন্দনকানন এলাকায় হকার ও অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদে বড়ধরনের অভিযান চালিয়েছে। দৈনিক পূর্বদেশ এ উচ্ছেদ অভিযানকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ইতিহাসে সবচেয়ে অভিযান হিসেবে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সাতজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। এতে পুরাতন রেল স্টেশন থেকে শুরু করে নিউ মার্কেট ও জিপিও এলাকার ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান পরবর্তী ফের দখল ঠেকাতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এ থাকছেন সংস্থাটির একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ফোর্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের অন্তত চার ঘণ্টা পরে নিউ মার্কেট মোড় পুরাতন রেল স্টেশন পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা সবকটি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মালামালও সরিয়ে নিয়েছেন দোকানিরা। দোকান নির্মাণে ব্যবহৃত লোহা কেজি মাপা ধরে বিক্রির দৃশ্যেরও দেখা মেলে। ফুটপাত-সড়ক দখল হওয়ার কারণে যে সড়কে হাঁটা দায় হতো, সে সড়ক সুবিশাল দেখাচ্ছে। মার্কেটগুলোর সামনের অংশ দেখা যাচ্ছে। এ যেন নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজারের জন্য কল্পিত রূপ। উচ্ছেদের পর দখল ঠেকাতে ইটের বøগ বসিয়ে রেখেছে চসিক। তবুও ফাঁকে ফাঁকে ভাসমান ভ্যানে চলছে হকারদের বিকিকিনি। কেউ কেউ রাস্তায় ত্রিপল বিছিয়ে বিক্রি করছেন। সবমিলিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের ফলাফল অনেকটা দৃশ্যমান।
অভিযান সম্পর্কে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নিউমার্কেট মোড়ের হকার উচ্ছেদ একশ্রেণির চাঁদাবাজদের কারণে খুবই কঠিন। এ চাঁদাবাজদের কারণে মানুষ স্বস্তিতে হাঁটতে পারত না, সড়কে জ্যাম লেগে থাকত। আমি সাহস করে এবং নিজের উপর ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। উদ্ধার হওয়া জায়গা রক্ষায় কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছি। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জায়গায় নিয়মিত মনিটরিং চলবে। কোন হুমকি, ধমকি বা প্রলোভনে কাজ হবে না। যে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের স্বার্থে কাজ করে যাব।’ তাছাড়া উচ্ছেদকৃত জায়গায় ফুল গাছের চারা রোপণ ও টব লাগিয়ে নান্দনিক করে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান মেয়র। এছাড়া বিকল্প হিসেবে হকারদের জন্য ‘হলি ডে’ মার্কেট চালু করার বিষয়টিও যোগ করেন তিনি। চসিক মেয়রের একান্ত ইচ্ছেয় এমনটি অভিযান নগরবাসীকে স্বস্তিতে ফেলছে। রিয়াজ উদ্দিন বাজার, তামাকুন্ড লেইন, বিপণি বিতান ও জুবলি রোডের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নগরবাসী এ জন্য মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তবে নগরবাসী আশা করে অভিযান যেন লোক দেখানো না হয়। এটিকে স্থায়িত্ব দিতে মেয়র মহোদয় যে উদ্যোগের কথা বলেছেন তা যেন কার্যকর হয়, সেই দিকে মনোযোগ দিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ- এমনটি প্রত্যাশা নগরবাসীর।