পি কে হালদারের ২২ বছর জেল

16

পূর্বদেশ ডেস্ক

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের (সাবেক এনআরবি গ্লোবাল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার ওরফে পি কে হালদারের ২২ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩৩৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
পি কে হালদারকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর আর অর্থপাচারের মামলায় ১২ বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আবদুস সালাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এছাড়া এ মামলায় বাকি ১৩ আসামিকে পৃথক দুই ধারায় তিন ও চার বছর মিলিয়ে মোট সাত বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পি কে হালদারকে ২২ বছরই সাজা ভোগ করতে হবে। তবে অন্য আসামিদের দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাদের চার বছর কারাভোগ করতে হবে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।
এই মামলায় পি কে হালদারসহ ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তবে রায় ঘোষণা সময় কারাগারে থাকা চার আসামি অবন্তিকা বড়াল, শংখ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধাকে আদালতে হাজির করা হয়।
বাকি পলাতক আসামিরা হলেন, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজীব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
মামলার প্রধান আসামি পিকে হালদার অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ১৪ মে ভারতের অশোকনগরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তার বিচার চলছে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রায় ঘোষণার জন্য ৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ১০৬ সাক্ষীর মধ্যে ৯৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। মামলার এজাহারে বলা হয়, পি কে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। এছাড়া ওই অর্থ আড়াল করতে বিদেশে পাচার করে মানি লন্ডারিং আইনেও অপরাধ করেন তিনি।
মামলাটি তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে- বেনামে ৯৩৩ কোটি টাকার জমি, ফ্ল্যাট ও হোটেল ক্রয় করেন পি কে হালদার। এর মধ্যে জমি কিনেছেন ৬ হাজার ৭৯০ শতাংশ। এই সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ৩৯১ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ১২ টাকা। নিজের নামে তিনি জমি কিনেছেন ৪ হাজার ১৭৪ শতাংশ। দলিলে এসব জমির দাম ৬৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ৯৩০ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ২২৮ কোটি টাকা। এছাড়া ধানমন্ডিতে তার নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।