পাহাড়ে জুমের হাসি

11

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চলের সবুজ পাহাড়ে জুমের পাকা ধান এখন সোনালী রঙে ফুটে উঠেছে। এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং আবহাওয়া ভাল থাকায় ফলনও ভাল হয়েছে। পাহাড়ি পল্লীগুলোতে এখন চলছে জুম কাটার উৎসব। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ পরিবারের সবাই জুমের পাকা ধান কাটতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পাহাড়ে বসবাসকারী ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র ম্রো সম্প্রদায় আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত জুম চাষের মাধ্যমেই তাদের সারা বছরের জীবিকা সংগ্রহ করে থাকে। তাই এসময় নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলে নবান্ন উৎসব। গোত্র ভেদে পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত ফসল দেবতাকে উৎসর্গের মাধ্যমে এই নবান্ন উৎসব উদযাপন করে থাকে।
কয়েকজন জুম চাষীর মতে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী পাহাড়িদের আদিপেশা জুম চাষ। যাতায়ত ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গম পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ জুম চাষের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং সদর উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের জুমে ধান চাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছর এপ্রিল মাসে জমি প্রস্তুত করে জুমের ধান ছাড়াও ঢেঁড়শ, চিনার, মিষ্টি কুমড়া, মারফা, বেগুন, মরিচ, কাকরোলসহ বিভিন্ন ফসল লাগানো হয়। আর ফলন ভাল না হলে বছরের শেষে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয় পাহাড়িদের। তবে এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবং আবহাওয়া ভাল থাকায় সবুজ পাহাড় ভরে গেছে সোনালী পাকা ধানে। পাহাড়ি পল্লীগুলোতে এখন চলছে জুমের ধান কাটার উৎসব আর ফলন ভাল হওয়ায় খুশি জুমিয়া পরিবারগুলো। জেলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মতে, এবছর বান্দরবান জেলায় ৮ হাজার ৯৭৮ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে এবং লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন। আর গত বছর আবাদ করা হয় ৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদিত হয় ১৭ হাজার ১৩৮ মেট্রিক টন ধান। তবে এবছর ফলন ভাল হওয়ায় জুমিয়া পরিবারগুলোর সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বান্দরবান সদর উপজেলার কৃষিবিদ ওমর ফারুক বলেন, পার্বত্য জেলায় পাহাড়িদের জুমচাষ একটি অন্যতম ফসল।
জুমে চাষাবাদ প্রদ্ধতি একটু ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। বিশেষ করে ধান এবং মসলা জাতীয় ফসল নিয়েই পাহাড়ি এলাকায় জুম চাষ হয়ে থাকে। এবছর জুমে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।