পানি নিয়ে ভাবনা গ্রামগঞ্জেও আর না

19

পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি পানের অভাবে মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হন। সেচ সুবিধার জন্যও পানির বিকল্প নেই। অন্যথায় ফসল আবাদ বাধাগ্রস্ত হয়। সংকট বিবেচনায় নিয়ে শহরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাব নিরসনে সরকার পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনো পুকুর-ডোবা কিংবা অগভীর নলকূপের (ছাপাকল) পানির উপরই নির্ভরশীল। যে পানিতে রয়েছে আর্সেনিক ঝুঁকি। এসব সমস্যা দূরীভূত করতে পানি নিয়ে ভাবনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যেই চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ১২ হাজার ৫৪২টি গভীর নলকূপ বসাতে কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন রায় পূর্বদেশকে বলেন, ‘সমগ্রদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১২ হাজার ৫৪২টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। এরমধ্যে চার হাজার ৯৬৬টি গভীর নলকূপের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোর বরাদ্দ মিললে দ্রুত কার্যাদেশ দেয়া হবে। এ নলকূপগুলোর মধ্যে ৫০ শতাংশ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে বাকিগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ নলকূপগুলো বসানোর ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে।’
সূত্র জানায়, পানি সংকট নিরসনে চট্টগ্রামে যেসব বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছে সবগুলো নগরকেন্দ্রিক। নগরীর ৭০ লক্ষ মানুষের প্রধান পানির উৎস এসব প্রকল্পের পানিতে দূরীভূত হলেও গ্রামের মানুষের বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েই গেছে। যে কারণে সরকার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলাকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনতে গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রান্তিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খামার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এবার বসানো হচ্ছে গভীর নলকূপ। প্রতিটি নলকূপ বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ১৪ উপজেলায় ৩৮ হাজার ৬৯৩টি গভীর নলকূপ ব্যবহৃত হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির উৎস কম সেখানেই ১২ হাজার ৫৪২টি নতুন নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হবে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চার হাজার ৬৭টি নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সন্দ্বীপে। সর্বনিম্ন ১০৪টি সীতাকুন্ডে। ইউনিয়নের মধ্যে সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউপিতে সর্বোচ্চ ৬৪৫টি নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সীতাকুন্ড পৌরসভা ও কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও ছলিমপুর ইউপিতে এবার একটিও নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
ফটিকছড়ি উপজেলায় বর্তমানে ৬৯৮টি গভীর নলকূপ আছে। নতুন করে ৪৬৮টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। সাতকানিয়ায় আগে দুই হাজার ৮৫৯টি গভীর নলকূপ থাকলেও এবার আরো দুই হাজার ৮৯৪টি নলকূপ বসানো হবে। বাঁশখালীতে বর্তমানে নলকূপ আছে পাঁচ হাজার ৪৩১টি, নতুন করে বসবে ৫৬০টি, লোহাগাড়ায় বর্তমানে আছে তিন হাজার ৫৫৩টি, নতুন বসবে ৩৮৭টি, রাঙ্গুনিয়ায় আছে ৫৯৩টি, নতুন বসবে ৮২৮টি, হাটহাজারীতে আছে এক হাজার ৩৫টি, নতুন বসবে ৩৯০টি, স›দ্বীপে চার হাজার ১৮০টি, নতুন করে এবার বসানো হবে চার হাজার ৬৮১টি, আনোয়ারায় বর্তমানে আছে দুই হাজার ৫৫টি, নতুন বসানো হবে ২৮৬টি, রাউজান বর্তমানে আছে ৪৫৪টি, নতুন বসানো হবে ৩৯০টি, বোয়ালখালীতে আছে তিন হাজার ৭৯৮টি, নতুন বসবে ২৬০টি, মিরসরাইয়ে বর্তমানে গভীর নলকূপ আছে চার হাজার ৮৯৭টি, নতুন করে বসানো হবে ৫৭০টি, চন্দনাইশে দুই হাজার ১০টি নলকূপ থাকলেও নতুন বসানো হবে আরোও ২৫৬টি, পটিয়ায় ছয় হাজার ২৭৪টি গভীর নলকূপ থাকলেও নতুন বসানো হবে ৪৬৮টি, সীতাকুন্ডে ৮৫৬টি গভীর নলকূপ থাকলেও ১০৪টি নতুন করে বসানো হবে।