পাঠকের কথা

29

বাড়ি-শৈশব কৈশোর এর ঝাঁপি খোলা আকাশ….

রুমানা নাওয়ার

বাড়িতে গেলে আমরা সবাই এক হয়ে যাই। শহরে আমরা যার যার বাসায় থাকলেও বাড়িতে গেলেই আমরা একসাথে থাকি,একহয়ে যাই। যেমন আব্বা থাকতে সবাই থাকতাম। মনের ভিতর কি এক সুখ, কি এক প্রশান্তি। গুনগুন করে উঠে মন। শৈশব কালটা যেন ফিরে আসে বাড়িমুখো হলে।দেহমনে শৈশব চোখেমুখে শৈশবের বালখিল্য পণা তাড়িত করে।তাড়িত করে কৈশোর, তারুণ্য। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আনন্দ মুখর মায়ায় ঘেরা সময়টুকুন মানুষ মনে হয় তার বাড়ি বা জন্মস্থানে কাটায়। নাড়ীর টান এ জন্য… বোধহয় থেকেই যায়। একটা ফুরফুরে মায়া মায়া অনুভূতি বাড়িকে ঘিরে মনের ভিতর বিরাজ করে। চারিদিকে প্রশান্তির ছায়া।কি ঘর কি বাহির উঠোন পুকুরপাড় খোলা বিল সবটায়। হাঁটতে ভালোলাগে গ্রামের ছায়াসুশীতল পথ ধরে।গাছেগাছে পাখির কলকাকলি গাছের ছায়া রোদে র ছায়ায় মিলেমিশে কি এক অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করে তা না দেখলেই নয়। মাটির সোদা গন্ধ প্রকৃতির শান্ত নিটোল স্নেহ এর পরতে পরতে।
এক হাঁড়িতে রান্না একসাথে খাওয়া একসাথে ঘুমানো। হুলস্থুলকাÐ। ঘরটা প্রাণ ফিরে পায় যেন। ঘরের সব লাইট গুলো জ্বলে উঠে। বিছানা বালিশ তোষক, দরজা জানালা যেন হাসতে থাকে। কলকল সারাদিন। ভাইবোনেরা সবাই গল্প আর আড্ডা। মনটা এক পবিত্র শিশু হয়ে যায়। একসাথে গাড়ীতে যাওয়া থেকে শুরু আমাদের এ যৌথভাবে যাপন। কয়েকটা দিন। হ্যাঁ মাত্র কয়েকটা দিনই তো। আমরা সব ভাইবোন আম্মার সাথে থাকি। জড়াজড়ি করে গলাগলি করে। খেতেও বসি একসাথে। তবে একটেবিলে সবার হয়না।পরিবারের সদস্য সংখ্যা দু একজন করে বেড়েছে। তাই দু তিনটেবিলে খাই পরপর। তবুও কি আনন্দ, কি হৈ হুলোড়। খাবারের প্রতিটি পদ দারুণ স্বাদের হয়।বড় ডেক্সিতে রান্না বেশি রান্নার মজাই আলাদা। আম্মার আনন্দ দেখে কে। সাথে বাচ্চাদের আনন্দ। আম্মার আর বাচ্চাদের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়।আম্মা শহরের বাসায় একদম রিলাক্স মুডে সময় পাড় করে। নামায কোরান তেলাওয়াত আর গল্পসল্পে দিন কাটায়। কিন্তু বাড়িতে গেলেই আম্মার ভিন্ন রুপ। পুরোদস্তুর গৃহিণী বনে যায় আম্মা এ বয়সে। আমাদের দুতলা ঘরের এমাথা ওমাথা উপরনিচ করতে আম্মার একটুও কষ্ট হয়না। গৃহকর্মী দের যাবতীয় দেখভাল যেন আম্মার উপর। এরকম একটা ব্যতিব্যস্ত ভাব তার। বাড়িতে পা পড়লেই আম্মা বদলে যায়। আম্মার সমস্ত শক্তি তখন দেহমনে বিরাজ করে। এক নতুন আম্মাকে আমরা দেখতে পাই।
আম্মার প্রিয় জায়গা আমাদের সামনের বড় পুকুর, পুকুর ঘাট আর মসজিদ ভিটা।পুকুর পেরিয়ে খানিকটা পরেই মসজিদ। মসজিদ সংলগ্ন কবরে আব্বা শুয়ে আছেন আজ বারোটি বৎসর।তাই হয়তো এ জায়গাগুলো আম্মার বেশি প্রিয়। আব্বাকে ছাড়া আম্মা একটি দিনও আছেন ? এ বারোটা বৎসরে একটিদিনও আম্মা আব্বাকে স্বপ্নে না দেখে ছিলোনা। আম্মা চোখ বুজলেই আব্বাকে দেখেন। চায়ের আবদার মান অভিমান অফিসে যাওয়ার তাড়া, ভাত খেতে বসে এটা ওটা কতো কি চাওয়া— আব্বার। চোখ মেললেই আব্বা নাই হয়ে যায়।আম্মা বুঝতে পারেন আব্বা স্বপ্নে এসেছেন। তারপর চোখ উপচিয়ে কান্না। আহারে আম্মা। এতো ভালোবাসা তোমার। সত্যি বিমুগ্ধ হয়ে যাই। স্বামী স্ত্রী দুজন মানুষ এক মন এক দেহ হয়ে যায়। তা আম্মাকে দেখেই বুঝি। কি প্রগাড় ভালোবাসা। একজনমেও ফুরায় না।
কর্মব্যস্ততা আমাদের টানে। আমরা ফিরে আসি যারযার জায়গায়। কিন্তু আম্মা আসতে চায়না। বাড়িতে থাকতে আকুলি বিকুলি করে। সবাইকে অনুনয় করে- আমাকে রেখে যাও। আমি এখানেই, থাকি। কোন উপায়ন্তর না দেখে কান্নাকাটি মন খারাপে পেয়ে বসে। আসার আগেরদিন থেকেই হায়হায় করতে থাকে। এতসুন্দর, নিপাট ঘরদোর এত বিশাল বাড়ি রেখে কোন দুঃখে শহরে পড়ে আছে -বলে বিলাপ করে।

 

হোল্ডিং নাম্বার ও ট্যাক্স আদায়ের নামে বাণিজ্য বন্ধ করুনরুমানা নাওয়ার

মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বা ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড ও গ্রামে চলছে বাড়ির হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট ও হোল্ডিং নাম্বার প্লেট প্রদানের কাজ এবং বকেয়া ট্যাক্স আদায়। এতে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে গ্রাম-গঞ্জে। এই কাজে রয়েছে দেশ জুড়ে বিশাল সিন্ডিকেট, মন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী ও সচিবদের নামে জাল স্বাক্ষরও ডকুমেন্ট তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে চুক্তি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
এবার আসুন আসল কথায়, উপরে উল্লেখিত পয়েন্টগুলো নিয়ে বিবেচনা করুন। দীর্ঘদিন যাবৎ দেখে আসছি যে, স্থানীয় সরকারের আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পরপরেই নামে-বেনামে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করার পর তারা বলেন যে, তাদের সংস্থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী/উপ-মন্ত্রী/সচিব অনুমোদন দিয়েছেন যে, হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট কাজ সম্পন্ন বা বকেয়া টাক্স আদায় করার জন্য। এমন ভুয়া/জাল/মিথ্য তৈরীকৃত কাগজপত্রের ফাইল ইউপি চেয়ারম্যানকে % হিসাবে অর্থ ভাগ করার লোভ দেখিয়ে পরে উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র গোপন করে শুধু মাত্র ইউপির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন সংস্থার প্রতিনিধি বা ব্যক্তিরা।
এর পর দেখা যায়, ওয়ার্ড ও এলাকা ভিত্তিক মাইকিং করে গ্রাম পুলিশ সাথে নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বকেয়া ট্যাক্স কয়গুণ বেশি আদায় এবং জায়গা-জমি, ছেলে-মেয়ে, অবস্থান জরিপ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামে ও হোল্ডিং নাম্বার প্লেট বাবদ-৫০-১৫০/- আদায় করে তারা ৫০-৮০% কাজ করে টাকাগুলা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায় সংস্থার প্রতিনিধি বা ব্যক্তিরা। ট্যাক্স আদায় চুক্তিতেও একই অবস্থা!
টাকা আদায়ের পর তাদের দেওয়া হোল্ডিং নাম্বার নিয়ে সেবার জন্য ইউপিতে গেলে মিলেনা কোন সেবা, কেউ প্রতিবাদ করলে ইউপি সচিব বলেন, এই হোল্ডিং নাম্বার ইউপি রেকর্ডের সাথে হোল্ডিং নং মিল নেই। দেশের অধিকাংশ ইউপিতে ২০০৪-৬, ২০১১-১২, ২০১৬-১৭ ও ২০২১-২৩ (চলমান) প্রতি ৫বছর পরপর ৩ বার হোল্ডিং নাম্বার নামে বাণিজ্য শুরু হয়, এই হোল্ডিং নাম্বারে জনগণকে ধোকা ছাড়া কিছু দেওয়া হয় না। এই ধরনের ঝামেলা কম-বেশি অধিকাংশ ইউপিতে হয়েছে। এই জন্যই মহোদয়গণের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমার ছোট এই বার্তা, আমি আশা রাখি যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ অতি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।