পাঠকের আস্থা পুরোনো লেখকে

6

আসাদুজ্জামান রিপন

অমর একুশে বইমেলায় পাঠক-লেখকের মহামিলন ঘটে। অনেক লেখক সারা বছর বইমেলার জন্য অপেক্ষা করেন। কখন মেলা হবে নিজের লেখা বইটি বের হবে, এই অপেক্ষায় থাকেন তারা। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তরুণ লেখকরা। নিজের লেখাটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যম বইমেলা। তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারো পুরানো নামকরা লেখদের মাঝে আস্থা রাখছেন পাঠকরা। তবে মেলা ঘুরে দেখা গেছে এবারও তরুণ লেখকদের উপর আস্থা রাখছেন না পাঠকরা।
রবিন্দ্র, নজরুল কিংবা হুমায়ুন আহমেদের বই কিনছেন পাঠকরা। কয়েকজন পাঠকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন লেখকদের প্রচুর বই আসলেও সেই মানের না হওয়ায় কিনছেন না। অন্যদিকে বইয়ের প্রচারণার অভাব দেখছেন তরুণ লেখকরা। তবে নিজের লেখার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি খ্যাতিমান লেখকদের লেখা পড়া এবং সান্নিধ্যে থেকে বই বের করার পরামর্শ অভিজ্ঞ লেখকদের।
মেলায় গতকাল স্টলে স্টলে ক্রেতার সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। শেষ সময়ে সবাই নিজ নিজ পছন্দের লেখকের বই সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে বেশিরভাগই পুরানো লেখকদের বই কিনছেন। তরুণ লেখকের বইয়ের ক্রেতা কম। তম্রলিপি, অনিন্দ্য, কথাপ্রকাশ ,ইউপিএল এবং প্রথমাসহ কয়েকটি স্টল ঘুরে এমন চিত্র দেখা মেলে। প্রথমা স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি তানবির জানাণ এবারের মেলায় একক বই হিসেবে আসিফ নজরুলে ‘আমি আবু বকর’ এবং আনিসুল হকের ‘কখনো আমার মাকে’ বই দুটি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তরুণ আইনজীবী ইবনাত ফাইজা অর্নি বলেন, ছোটবেলা থেকে রবিন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, হুমায়ুন আহমেদের লেখা পড়ে বড় হযেছি। তাদের লেখার সাথে জীবনের মিল খুজে পাই। কোনো একটা পড়া শেষ হলেও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়। একটা ক্ষুধা তৈরি করে। কিন্তু তরুণ লেখকদের লেখার মাঝে সেটি পাওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমের কল্যাণে তরুণ লেখকের বই কিনলে তাতেও যদি সাহিত্য না থাকে পরে আর আগ্রহ থাকে না।
তরুণ লেখক অভিলাষ মাহমুদ বলেন, তরুণ লেখকের কাছে পাঠকের সবসময় প্রত্যাশা বেশি থাকে। সে তুলনায় প্রচারণা কিংবা সহযোগিতা একেবারেই কম। রবিন্দ্র কিংবা নজরুল একদিনে তৈরি হয়নি। যথেষ্ট সংগ্রামের মাধ্যেমে বিখ্যাত হয়েছেন। একজন তরুণ লেখককে লেখার পাশাপাশি অনেককিছু করতে হয়। তবে একজন বিখ্যাত লেখকের যে পরিমাণ প্রচারণা হয় সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে তরুণরা। পাঠকরা পাশে থাকলে তরুণরা ভালো লেখা উপহার দিবে।
লেখক প্রবান্ধিক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক মুহাম্মাদ শামসুল হকের বলেন, তরুণ লেখকদের হাত ধরে সাহিত্য সমৃদ্ধ হচ্ছে। ভালো লিখছে, ভালো ভালো বই বের করছে। তবে অনেকে তথ্য উপাত্ত নিয়ে লেখেন না। দিনশেষে প্রকৃত পাঠকরা লেখার মান যাচাই করে বই কেনে। একজন লেখক নিজের পাশাপাশি পাঠকের উদ্দেশ্যে লিখেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমের কল্যাণে পরিচিত লাভ করলেও সেটি সাময়িক। লেখক হিসেবে টিকে থাকতে হলে ভালো লেখার বিকল্প নেই। নতুন লেখকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ থাকবে একটা দুইটা বই প্রকাশ হল, সেটি চিন্তা না করে নিজের লেখার মান যাচাই করা। বেশি বেশি খ্যাতিমান লেখকদের লেখা পড়া। বই বের করার আগে তাদের সাথে পরামর্শ করা।