পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা ২৪ শতাংশ বেড়েছে

8

 

পাকিস্তানে ২০২২ সালের মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে জঙ্গি হামলার সংখ্যা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেশিরভাগ হামলা ফেডারেল অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এলাকায়। এর পরের অবস্থানে আছে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস) দ্বারা প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে মোট ৩৪টি জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে, এতে ৫৫ জন নিহত হয়। এছাড়া ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী ও ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ২৫ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ইংরেজি পত্রিকা ডন জানিয়েছে, মার্চে, জঙ্গিরা সারাদেশে ২৬টি হামলা চালায়। যাতে ১১৫ জন নিহত এবং ২৪৪ জন আহত হয় ।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত তথ্যে এপ্রিল মাসে ১৬টি জঙ্গি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে যাতে ২১ জন নিরাপত্তা কর্মী, সাত জঙ্গি এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিকসহ ৩১ জন নিহত হয় ও ছয়জন নিরাপত্তা কর্মী এবং চারজন বেসামরিক নাগরিকসহ ১০ জন আহত হয়।
একই মাসে খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে জঙ্গিরা ১০টি হামলা চালায়, যাতে ১২ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং পাঁচজন বেসামরিক নাগরিকসহ ১৭ জন নিহত হয়। এছাড়া ছয়জন আহত হয়। যার মধ্যে তিনজন বেসামরিক এবং তিনজন নিরাপত্তা কর্মী।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে বেশিরভাগ সন্ত্রাসী হামলা আফগানিস্তানে অবস্থিত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি দ্বারা পরিচালিত হলেও, বেলুচ জঙ্গিবাদও বাড়ছে। বেলুচিস্তানে চারটি জঙ্গি হামলায় একজন নিরাপত্তা প্রধান এবং একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং চার বেসামরিক নাগরিকসহ পাঁচজন।
পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ সিন্ধুতেও অনেক জঙ্গি হামলার খবর পাওয়া গেছে। সিন্ধু প্রদেশে, চারটি জঙ্গি হামলা হয়েছে যাতে চার বেসামরিক নাগরিক এবং একজন জঙ্গি নিহত হয়।
পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতেও জঙ্গি হামলা থেমে নেই। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চীনা শিক্ষকের ভ্যানে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং চারদিক থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
তবে এপ্রিল মাসে কোনো জঙ্গি হামলা না হওয়ায় পাকিস্তানের সীমান্তরাজ্য পাঞ্জাব স্বস্তি পেয়েছে। যদিও পাঞ্জাবে কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি তবুও বেশিরভাগ গ্রেফতারই সেখান থেকে হয়েছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ২২টি অ্যাকশন চালিয়েছে যাতে ১১ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৭ জন নিহত হয়।