পলিথিনমুক্ত বাজারে নীরবেই চলে পলিথিনের ব্যবহার

6

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারের সামনেই টাঙানো ব্যানারে লেখা পলিথিনমুক্ত বাজার। প্রবেশ করতে মাছের দোকানে বাইরে থেকে পলিথিনের দেখা মিলছে না। তবে সাজিয়ে রাখা মাছগুলো পলিথিনে মোড়ানো। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পর্যবেক্ষণ করতেই দেখা মিলে ভিন্ন চিত্র। দোকানি বসার সিটের নিচ থেকে পলিথিন বের করে মাছ ঢুকিয়ে বিক্রেতাকে দিচ্ছেন। শুধুমাত্র মাছের দোকানে নয়, প্রায় সবক’টি দোকানির কৌশল একই। মাঝেমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট এসে হানা দেন, জরিমানা করেন। তাই বাজারের আপাতত চিত্র বদলানোর মত মনে হলেও কার্যত পলিথিনের ব্যবহার কমেনি। গতকাল বিকালে ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসের নিচে চকবাজার কাঁচাবাজারে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলে।
কাজির দেউড়ির চউক কাঁচাবাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্মুখের ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাকে জিজ্ঞেস করা হয় ব্যাগ আছে কি না? ব্যাগ না থাকলে লুকোনো জায়গা থেকে পলিথিনে করে ফল বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ফলের দোকানে টাঙানো প্রত্যেকটি ফল পলিথিন মুড়িয়ে ‘ডিসপ্লে’ করা হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা প্লাস্টিকের থলেতে করে বাজার করছেন। তাতে জায়গা করে নিয়েছে হরেক পদের বাজার। কিন্তু প্রতিপদের পণ্য মোড়ানো হয়েছে পলিথিনে। মূলত ক্রেতাদের অসচেতনতার কারণেই পলিথিন ব্যবহার আটকানো যাচ্ছে না। বিক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা পলিথিন ব্যবহারে ইচ্ছুক না। বাজারে পলিথিন সাপ্লাই দেয় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা লোকজন। আর ক্রেতারা আলাদা করে পলিথিন চান। সেক্ষেত্রে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পলিথিন ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। পলিথিন তৈরি বন্ধ না করে বাজার পলিথিন মুক্ত কিভাবে করবে? সেটাই তো বুঝি না। চট্টগ্রাম শহরে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ, মানুষও পলিথিন ব্যবহারে আগ্রহী না, তাহলে তো পলিথিন খুঁজলেও পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য কাজির দেউড়ির এক তরকারি বিক্রেতার।
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর থেকে চকবাজার, কাজীর দেউড়ি ও কর্ণফুলী কাঁচাবাজারে পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান উপকরণ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। পর্যায়ক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতায় অন্যান্য কাঁচাবাজার, দোকানপাটগুলো এর আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাইকিং, প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে এ নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানাসহ কঠোর আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘোষণার দিন পলিথিনের ক্ষতির নানা দিক তুলে ধরে মেয়র বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলিথিনের স্তরের কারণে জাহাজ চলাচলে যেমন বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি নদীর গভীরতা রক্ষার জন্য যে ড্রেজিং করার প্রয়োজন তারও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্ণফুলী বাঁচাতে না পারলে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে যাবে এবং এর কুপ্রভাব সারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। পলিথিন শুধু জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না, এর কারণে মাটির উর্বরতা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির সৃষ্টি হচ্ছে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প হিসেবে পাট বা কাপড় বা নন ওভেন ফেব্রিক্সের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করে সবাইকে সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ নিয়ে মেয়র বাজারে বাজারে গিয়ে মাইকিং করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে সচেতনতা সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করেছেন। তবুও পলিথিব ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব বিষয় নিয়ে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা শুরু করেছি, পুরোটা সফল না হলেও পরিবর্তন তো এসেছে। জরিমানা করছি, সচেতন করছি। কিছুদিন শিথিল রয়েছি, কেননা যারা পলিথিন ব্যবসায়ী তারা ইতোমধ্যে যা মজুদ করেছে তা যেন শেষ হয়ে যায়। এর পরে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। পরিবেশ-জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পুরো শহরজুড়ে পলিথিনমুক্ত বাজার গড়ার জন্য কাজ করবো। এক্ষেত্রে মানুষের সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। কোনো বিক্রেতা পলিথিন দিলে সাথে সাথে প্রতিবাদ করার আহŸান জানান মেয়র।