পরীক্ষাভিত্তিক না হয়ে শিখনের উপর জোর দেওয়া ইতিবাচক

27

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে, বন্ধ হবে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, জেডিসি; নবম-দশমে থাকবে না বিভাগ বিভাজন, একাদশ-দ্বাদশের ফল মিলে এইচএসসির ফল।
গত সোমবার দুপুরে এ কারিকুলামের নানা বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত কারিকুলামে পরীক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নকেও। ২০২৩ সালে এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরো কারিকুলাম বাস্তবায়ন করবে সরকার। আগামী বছর প্রথমিক ও মাধ্যমিকে ১০০ করে মোট ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ শিক্ষাক্রমের পাইলটিং করা হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
এ বিষয়ে দৈনিক পূর্বদেশের সাথে কথা বলেছেন বেসরকারি সেবা সংস্থা ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, সরকার যে পরিবর্তিত শিক্ষাক্রমের কথা ঘোষণা করেছে, তা এক অর্থে বাস্তবিক এবং সঠিক দিকেই এগিয়ে যাওয়ার নিদর্শন। পরীক্ষার বোঝা না বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিকভাবে শিক্ষিত হওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষানীতিতে যা-ই বলা হয়, তা কাগুজে পর্যায়ে থাকে। বাস্তবভিত্তিক চিন্তাগুলো হয়ত দুর্বল থাকে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সরকার হয়ত উপলব্ধি করেছে পরীক্ষাভিত্তিক না করে, শিখনের উপর জোর দেওয়া হোক। তাই এমন ঘোষণা এসেছে। বলা চলে শিক্ষানীতির দিক-নির্দেশনাকে সঠিক দিকে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তাতে সঠিক সুফল আসবে না। কেননা সরকারই তো ২০১০ সাল থেকে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো একেবারে পাবলিক এক্সাম বানিয়ে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, এ পরিবর্তিত শিক্ষাক্রমের সুফল পেতে হলে দুইটি বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে। প্রথমত, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ মানসম্মত ও শিক্ষার প্রতি অনুরাগী শিক্ষকদেরকেই আনতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে কম সুফল দিবে এ শিক্ষা ব্যবস্থা। আরেকটি হল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের দিকে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে দুইভাবে শিখে, বইভিত্তিক ও পরিবেশভিত্তিক। বইপড়ে শিক্ষার্থীরা জানবে ও শিখবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, যেখানে একে অপরকে শ্রদ্ধা করবে। ছাত্ররা শিক্ষকদের, শিক্ষকরাও পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও অনুধাবন করবেন। ছাত্ররা মাস্তানিতে জড়াবে না, স্কুল পরিচালনা কমিটিও মাস্তানি চর্চা করবে না। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শিক্ষাতেই নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটো বিষয় নিশ্চিত করা ছাড়া, এমন শিক্ষাব্যবস্থা সঠিকভাবে সুফল বয়ে আনতে পারে না।