পরিকল্পিত ও কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি নিয়ে চসিকের এগিয়ে আসা জরুরি

6

 

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায় বিগত বার বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচির কার্যকারিতা খুবই নিষ্ক্রিয়ভাবে চলছে। যা নগরবাসীর জন্য খুবই হাতাশাব্যাঞ্জক। দেশে বৈশ্বিক অতিমারি কোভিড-১৯ জনিতকারণে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষ ভিতি ও উৎকণ্ঠায় জীবন যাপন করছে। সরকার ও করোনা নিয়ন্ত্রণে কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বার বার লকডাউন দিয়ে সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণের যে পদক্ষেপ নিচ্ছে নানা কারণে তা যথাযথ কার্যকর হতে দেখা যাচ্ছে না। প্রকৃত পক্ষে সর্বকিছু ঠিকটাক করে সত্যিকারের ১৫দিন লকডাউনে দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু সরকার বার বার লকডাউন দিচ্ছে, আবার তার মেয়াদ বৃদ্ধিও করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এক ধরনের কথা বলে কিন্তু সরকার বিশেষ শ্রেণির চাপে একবারও পূর্ণাঙ্গ লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারেনি এমন বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের। সরকার এক দিকে লকডাউন দেয় অন্যদিকে কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। অপর পক্ষে বহু কোরবানির পশুর বাজারের অনুমোদনও সরকার দিয়েছে। যার কারণে করোনা বৃদ্ধির অপসুযোগ তৈরি হয়েছে। আবার শিল্প কারখানার মালিক ও পোশাক শিল্পের সংগঠনসমূহের কাছে বার বার সরকার নত হয়ে প্রকৃত লকডাউন পালন কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে তুলছে। একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার দীর্ঘদিন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করে রাখতে পেরেছে মাত্র। যার ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মুমূর্ষু অবস্থায় কালাতিপাত করছে।
এদিকে দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখা যাচ্ছে। তারপরও কোরবানের পর ২ সপ্তাহের পূর্ণ লকডাউন হতে সরে পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান ১ আগস্ট হতে আবার খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্তত ৫ তারিখ পর্যন্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের কার্যক্রম লকডাউনের আওতায় থাকলে কিছুটা আশার সঞ্চার হতে পারতো। সে যাই হোক দেশের করোনা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ কি তা কোনভাবে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ঢাকায় মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ ছড়াতে পারে এই বর্ষার মৌসুমে। দেশের মানুষ ডেঙ্গু ও করোনার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মহানগরী এলাকায় মশক নিধনের সুনির্দিষ্ট কোন কর্মসূচি পালন করছে না। এ সম্পর্কে চসিকের প্রস্তুতিও নেই। পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায়, চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ শাখার খুবই নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম শহরে মশার উৎপাতে দিনে রাতে ঘরে-বাইরে কোথাও নগরবাসী নিরাপদ থাকতে পারছে না। মশক নিধনে চসিকের যেমন লোকবল নেই তেমনি বিশেষজ্ঞদের পদসমূহও শূন্য রয়েছে। যার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকৃতপক্ষে মশা নিধন কর্মসূচি পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়াতে চট্টগ্রামেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। যা নিয়ে নগরবাসী খুবই আতঙ্কে রয়েছে। এমতাবস্থায় বিশেষ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে চসিকের উচিৎ মশক নিধনের কার্যকর কর্মসূচি পালন করা। চসিক বিশেষ ব্যবস্থায় মশক নিধন কর্মসূচির মাধ্যমে মহানগরী এলাকার মানুষকে মশাবাহিত রোগ হতে নিরাপদ রাখতে এগিয়ে আসবে, এমন দাবি নগরের সর্বস্তরের মানুষের।