পটিয়া ও সীতাকুন্ড স্বামীর হাতে স্ত্রী, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

20

পটিয়া ও সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

পটিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে গলা ও অন্ডকোষ টিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ মালিয়ারা গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের মকবুল মুন্সির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে সীতাকুন্ডে স্ত্রীকে খুন করে পরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক যুবক। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পৌরসদরের প্রেমতল লোকনাথ আশ্রম সংলগ্ন মালি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পটিয়ায় হত্যাকন্ডের শিকার মোহাম্মদ ইউনুছ (৫০) মৃত ফজল আহমদের পুত্র। তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। ইউনুছ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গতকাল বুধবার নিহতের স্ত্রী লাভলী আকতার বাদী হয়ে একই এলাকার এরশাদ, নুর আজিম, আহমদ কবির, হামিদা, চেমন আরা, সাদিয়া আক্তার পপিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ মালিয়ারা গ্রামের মকবুল মুন্সির বাড়ির নিহত ইউনুস এর চাচতো ভাই নুরুল আজিমের মেয়ে সাদিয়া আক্তার পপির সাথে অপর চাচাতো ভাই সোলেমান এর শ্যালীকার ছেলে মোহাম্মদ বেলালের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের পরিবারের লোকজনের মধ্যে কথাকাটি হয়। এ সময় নিহত ইউনুস উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। পরবর্তীতে পপির পরিবারের লোকজন ইউনুসকে গালিগালাজ এবং মারধর করতে থাকেন। পরে তাকে মাটিতে ফেলে আসামি নুরুল আমিন গলা চেপে ও হামিদা অন্ডকোষ চেপে ধরলে ঘটনাস্থলে ইউনুস অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সময় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কর্ণফুলী থানাধীন কলেজ বাজার সাউথইস্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউনুছকে মৃত ঘোষণা করেন।
পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাইকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ইউনুছের স্ত্রী লাভলী আকতার বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে সীতাকুন্ডে স্বামীর হাতে খুন হওয়া যূথীকা সূত্রধর (২১) পৌরসদরের প্রেমতল এলাকার রাম সূত্রধরের মেয়ে। যূথীকা সূত্রধরের স্বামী অভি ধর পুলিশ পাহাড়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, সীতাকুন্ড মালি বাড়ির রাম সূত্রধরের মেয়ে যূথীকা সূত্রধরের সাথে বাঁশখালী উপজেলার অভি সূত্রধরের কয়েকবছর আগে বিয়ে হয়। প্রেমের বন্ধনে নিজেরা এ বিয়ে করলেও এতে মত ছিল না তাদের পরিবারের। তবে বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। এর জের ধরে অভি সূত্রধর কিছুদিন অন্যত্র থেকে গত কয়েকদিন আগে আবার শ্বশুর বাড়িতে আসেন। গতকাল বুধবার দুপুরে খাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া-বিবাদ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে প্রথমে স্ত্রী যূথীকা ধরকে গুরুতর আহত করে। পরে নিজেও চুরিকাঘাতে আহত হয়। এসময় বাড়ির লোকজন গিয়ে আহত দুইজনকেই উদ্ধার করে সীতাকুন্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক যূথীকা সূত্রধরকে মৃত ঘোষণা এবং অভি ধরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অভি ধরকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে রেখেছেন।
সীতাকুন্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, অভিযুক্ত আসামি স্বামী অভি ধর গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখেছি। মূলত স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী নিজেই চুরিকাঘাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আইনগত বিষয় শেষে অভিযুক্তকে আসামি করে আমরা হত্যা মামলা রুজু করবো।