পটিয়ায় পাউবোর ১১৫৮ কোটি টাকার বড় প্রকল্প

26

পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক হাজার ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠবে আজ। গত ২৮ এপ্রিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নোটিশে এ প্রকল্পটি কার্যতালিকার আট নম্বরে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে আগামী অর্থ বছরেই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় পাউবো। এতদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যায় ভুগতে থাকা পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের মানুষ এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে গত দেড় মাস ধরে একনেক সভা বন্ধ রয়েছে। দেড় মাস পর আজ মঙ্গলবার একনেক সভা হওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রীর সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমান। নতুন করে কোন জটিলতা না হলে পটিয়ার উন্নয়নে হাতে নেয়া পাউবোর প্রকল্পটি ডিপিপি তৈরির প্রায় দেড় বছর পর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা পূর্বদেশকে বলেন, ‘পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধায় এক হাজার ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কারণে প্রকল্পটির ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে ছিল। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একনেক সভার তালিকায় এ প্রকল্পটি রাখা হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের কাজে ঢাকায় এসেছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরো পটিয়ার মানুষ উপকৃত হবে।’ তিনি বলেন, ‘পটিয়ায় অনেক জায়গা-জমি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে এসব জায়গা চাষাবাদের আওতায় আসবে। লবন পানি রোধ হবে। বর্ষায় থাকবে না জলাবদ্ধতা। আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবধরনের অগ্রগতি সম্পন্ন করেছি। একনেকে অনুমোদন হলেই দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হবে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পটিয়ায় অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। বন্যায় ধান নষ্ট হয়। এ প্রকল্পের কারণে অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পুরো পটিয়ায় বেড়িবাঁধ ও রিংরোড হবে। এ প্রকল্পে ২৪টি স্লুইস গেট বসানো হবে। জমে থাকা পানি নামাতে স্লুইসগেটগুলো তুলে দিলেই পানি নদীতে পড়ে যাবে। এতে জলাবদ্ধতার প্রকট কমবে। পুরো পটিয়া উপজেলা এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে। ইতোমধ্যে ধলঘাট, কেলিশহর পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। কোলাগাঁওয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এসব বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।
পাউবো সূত্র জানায়, পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। প্রকল্পে সেচ অবকাঠামোর সুবিধার্থে ১-৫ ভেন্টের ২৪টি নতুন রেগুলেটর বসাতে ব্যয় হবে ১৩৮ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা, ১৩টি খালের ৩৬ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা, প্রায় ৩০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৬৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা, প্রায় তিন কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণে ৪৫ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। প্রায় ৭২ হেক্টর ভ‚মি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬০ দশমিক ৯৯ হেক্টর, ডাইভার্সন ক্যানেলের জন্য ৫.১০ হেক্টর, রেগুলেটরের জন্য ৫ দশমিক ৭৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। গত বছরের ১৯ জুলাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উপজেলা পটিয়া। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান আমলে পটিয়া মহকুমা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৮৪ সালে পটিয়া উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে ১৭টি ইউনিয়ন ও ১২৪টি গ্রাম নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। ৩০৯ দশমিক ৮৩১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের বসবাস। পুরো উপজেলায় ৩৬ হাজার ৯০০ একর কৃষি জমি রয়েছে।