নয়াচীন দেখা ও জাতির পিতার সুশাসনের রূপরেখা

11

সুরেশ কুমার দাশ

বিদেশ ভ্রমণে ভ্রমণকারীর দেখার অনেক কিছুই থাকে। দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিচিহ্ন, শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক নিদর্শন, প্রকৃতি-পর্যটন, স্থাপত্য-ভাস্কর্য, অট্টালিকা নানা কিছু। অনেক দৃশ্যের মধ্যে- ভ্রমণকারীর কৌত‚হলই আসল কথা। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীন দেখতে কিংবা ভ্রমণে যান নাই। তিনি চীনে গিয়েছিলেন শান্তি সম্মেলনের ডেলিগেটর হিসাবে। সেখানে চীন দেখার ভিত্তিতে তিনি রচনা করলেন ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থটি। শান্তি সম্মেলনে গেলেও তিনি শান্তি সম্মেলনের বিষয়বস্তুকে সেই অর্থে অতটা গুরুত্ব দেননি। সম্মেলন চলাকালীন সময়েও তিনি মাঝে মাঝে সম্মেলন থেকে বের হয়ে যেতেন। তা শুধু চীন দেখার জন্য। কেমন চীন গড়েছে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট সরকার- তা দেখতে। আর কেমন দেখলেন সেই ১৯৫২ সালের চীন বাংলাদেশের জাতির পিতা সেটাই তার গ্রন্থে শেখ মুজিব তুলে ধরেছেন। অবশ্যই তার কৌত‚হলের জায়গাগুলি নিয়েই লিখেছেন তিনি।
চীন রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সম্পর্ক কেমন। আর এমন সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে সরকার কি কি করেছে। অথচ চীনে অনেক কিছু দেখার থাকলেও তিনি চীনের নতুন সরকারের কার্যক্রম, পরিকল্পনা ও প্রশাসন নিয়েই লিখলেন। শান্তি সস্মেলন বা ভ্রমণের বর্ণনাও নেই। তার দেখা নয় চীন- সেটা তখনকার সময়ের পাকিস্তানের একজন তরুণ রাজনীতিকের দেখা স্বপ্নরাজ্যের ছবি যেন। যখন শেখ মুজিবের বয়স মাত্র ৩২ বছর। যিনি সেই ১৯৫২ সাল থেকে কোনো অসাধারণ রাজনীতি করার জন্য নিজকে গড়ে তুলছিলেন। আমরা সেটা তার ৩২ বছর বয়সের কৌত‚হল দেখলেই তা ধারণা করতে পারি।
আমরা আজও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার কথা বলি। সেজন্য আমরা কতটুকু চেষ্টা করছি সেই আজ সমগ্র জাতির কাছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও আমরা রাষ্ট্রের উন্নয়ন নয়, নাগরিক গড়া কিংবা দেশপ্রেমিক জনগণও সৃষ্টি করতে পারিনি। অথচ বঙ্গবন্ধু বলেছেন মাত্র চার বছরে বিপ্লবী সরকার চীনের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাইই নয়, তাদের চিন্তা ভাবনাও বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। শুধু উন্নয়নই নয়, দেশের ক্ষেত্রে যদি জনগণের চিন্তা ভাবনার দিক পরিবর্তন না হয়, তাহলে অন্যসব সদ্ব্যবহার হবে না। চীন ভ্রমণে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে কোনো স্বপ্নরাজ্যের আকাক্সক্ষা কথা বলেননি। একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে তুলে ধরেছেন। তখন চীন দেখে তিনি বিস্মিত হচ্ছেন-জনকল্যাণমূলক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য। আজকের বাংলাদেশের ভাবনা হয়তো তখনও তার মনেও আসেনি। ৭১ সালে একটি বাংলাদেশ হবে সেটির ভাবনাও ছিল কিনা- আমরা জানিনা। চীন দেখে দেখে তিনি তুলনা দিচ্ছেন তখনকার পাকিস্তানি শাসকের শাসন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অবস্থার, বাজার ব্যবস্থার, জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সাথে আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্যের। হয়ত তিনি আশা করেছিলেন- তিনি পাকিস্তানকে এমনটাই দেখতে চান। বা তার চেয়ে আরও সফল। হয়ত তা হয়নি বলেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।
চীনের গ্রামীণ জনপদ দেখতে দেখতে তিনি পূর্ব বাংলার রূপ সৌন্দর্যে বিহŸল হয়ে পড়ছেন। চীনের ট্রেনের জানালা দিয়ে তিনি যেন তার পূর্ব বাংলা দেখছেন – চীন দেখার বর্ণনা দিচ্ছেন- ‘মনে হলো এ তো আমার পূর্ব বাংলার মত সকল কিছু। সবুজ ধানের ক্ষেত, চারদিকে বড় বড় গাছ। মাঝে মাঝে মাটির ঘরের গ্রাম। ছোট ছোট নদী, ট্রেনটা পার হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার কোদাল দিয়ে জমি ঠিক করছে। বেশ লাগছে দেশটা।’
যেন তিনি বাংলার মুঠে- মজুর- কৃষকের কর্মক্লান্ত সবুজ জনপদের ছবি আঁকছেন। দেখছেন- উন্নয়ন, উৎপাদন, অর্থনীতি ও দেশেপ্রেমে যেন বাংলাদেশ আর নয়া চীন সর্বসম ত্রিভ‚জের প্রতিরূপ। যদিও তিনি তখন পাকিস্তানের নাগরিক। বাংলার প্রতি অবিরত এমন ভালোবাসাই হয়ত তাকে প্রেরণা দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির। স্বাধীনতার পর যে দেশকে তিনি তার প্রায় চার বছরে শত চেষ্টায়ও কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র গড়তে পারেননি। দুর্নীতি, চোরাকারবারি, ঘুষ, অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে বা বার সাবধান বাণী উচ্চারণ করেও তিনি কোনো কিনারা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জীবন দিতে হয়েছিল তাকে ঘাতকদের বুলেটের কাছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীন ভ্রমণে যান পিকিং শান্তি সম্মেলনের আমন্ত্রন পেয়ে। তিনি শুরুতেই মাওলানা ভাসানীর কথা উল্লেখ করেছেন- মাওলানা ভাসানী তাকে নির্দিষ্ট করে বলেছেন- চীন দেশটি সুযোগ পেলে দেখে আসার জন্য। ‘অল্প দিনের মধ্যে তারা কত উন্নতি করেছে। ’ আমার ‘দেখা নয়া চীন’ লেখা তিনি এভাবে ভাসানীর কথা দিয়ে শুরু করেছেন। পাকিস্তানের ৩২ বছরের একজন তরুণ রাজনীতিবিদ চীন ভ্রমণে গিয়েই তিনি সেই ‘স্বপ্নরাজ্য’ পেয়ে গেলেন যেন। তিনি দেখলেন চীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শুধু সরকার নয়, জনগণের অভাবনীয় ত্যাগ- তিতিক্ষা। দেশপ্রেম। গোটা বইয়ে তিনি ঘুরে ফিরে চীনের সরকার ও জনগণের যে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস- একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার, সর্বত্র এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মনে দাগ কেটেছে কেবল এসবই। অন্যসব বাদ দিয়ে তার বইয়ে কেবলই চীন গড়ার অনন্য বর্ণনা। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৬৯ বছর আগে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেখা চীন কেমন ছিল সেই কথা। ১৯৫২ এর পর অর্থাৎ ১৯ বছর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এর মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের কেটে গেছে প্রায় ৫০ বছর। বঙ্গবন্ধু সেই চীন ভ্রমণে শুধু চীনের চার বছরের কমিউনিস্ট সরকারের দেশ শাসনের বর্ণনাই দিয়েছেন।
১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে জাতির পিতা জেল থেকে বের হয়ে চীন ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে যান। পাকিস্তান শান্তি কমিটির পক্ষে তারা ৫ জন যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব বাংলা থেকে আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি আতাউর রহমান খান, ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান।
জাতির পিতা দুটি বিষয় নিয়ে কৌত‚হলী ছিলেন- চিয়াং কাই শেকের সাথে যুদ্ধের পর চীনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আর উন্নয়ন, চিয়াং কাই শেককে হারানোর পর দেশগঠনে যে কৌশলে সামনে এগোতে থাকে কমিউনিস্ট সরকার। যুদ্ধের পর চিয়াং কাইশেক সরকারের সহযোগিরা পালিয়ে যান। এরপর যারা দেশপ্রেমিক তথা চুরি-চামারি-দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে চিয়াং কাই শেককে সহযোগিতা করেনি, সৎ জীবন যাপন করেছে তাদের ও বাকি জনগণকে নিয়ে নয়া চীন সরকার দেশ চালানো শুরু করে।
১৯৪৯ সালে যুদ্ধ শেষ হলে চীনের কমিউনিস্ট সরকার জনগণের দেশপ্রেমকে জাগ্রত করার কাজটি খুব সুচারুভাবে করে। এই প্রসঙ্গে পিকিং শান্তি সম্মেলনের সময় জনগণ ও কমিউনিস্ট সরকারের সম্পর্কের একটি উদাহরণ তুলে ধরা যায়। শান্তি সম্মেলনের বিদেশি প্রতিনিধিদের রাখার জায়গা সংকুলান করার জন্য চীন সরকার তাদের জনগণকে অনুরোধ করল- বিদেশ থেকে ‘তোমাদের অতিথি’ আসবে। তাদের থাকার জন্য চারতলা দালান করতে হবে। চীন সরকারের আহŸানে সমস্ত লোক ঝাঁপিয়ে পড়ল। ৭০ দিনে চীনের সব জনগণ মিলে বিরাট এক দালান করে ফেললেন। বঙ্গবন্ধু তার সাথে আলাপকারীকে জিগ্যেস করলেন- ‘জনগণ ঝাঁপাইয়া পড়লেন কেন?’ জনগণকে এভাবেই সরকার মোটিভেট করেছে-জনগণ বুঝতে সক্ষম হয়েছে- সরকারের কাজ মানে জনগণের কাজ। তাই তারা যতদিন পেরেছে খেটে কাজ করেছে। সরকারও কারো উপর জোর করেনি। এমনকি চীন সরকারের ডাকে কাজে যোগ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের বাসায় কাজের লোকও ছুটে গিয়েছিল। সরকারের ডাকই তাদের কাছে কর্তব্য পালনের দায় সৃষ্টি করেছিল। তাই চীনের প্রত্যেক জনগণ সরকারের ডাকে এমনি অনেক কাজে যোগ দিয়েছে।
চীনাদের মধ্যে যারা খুব ভালো ইংরেজি জানেন- তারা কেউ কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলেন না। চীনে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে – কিন্তু কোনো চায়না ইংরেজিতে বক্তব্য দিলেন না। চায়না লোকই দোভাষী হয়ে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে দিলেন। ‘ম্যাডাম’ ইয়াৎ সান খুব ভালো ইংরেজি জানেন- কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করলেন চীনা ভাষায়। ইংরেজি জানলেও তারা রাষ্ট্রীয় উপলক্ষগুলোতে চায়না ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাদেরই লোক আলাদা দোভাষী হয়ে চীনা ভাষা অনুবাদ করে দেন। তাদের শিক্ষিত অংশ খুব ভালো ইংরেজি জানা ব্যক্তিবর্গও ইংরেজিতে বিদেশিদের সাথে কথা বলেন না। নানকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ইংরেজিতে তুখোড়। তবু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে চায়না ভাষাতেই আলাপ আলোচনা করেছেন। আর দোভাষী অনুবাদ করে দিয়েছেন। অথচ যিনি দোভাষী তার ইংরেজিতে ভুল হলে সেই ভিসি সংশোধন করে দিচ্ছেন দোভাষীকে। তবু তিনি বিদেশির সাথে ইংরেজি বলছেন না। দেশপ্রেমকে সেভাবে চীনের কমিউনিস্ট সরকার জনগণের মধ্যে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছে। বলা যায়-চায়নাদের এ রকম ভাষা প্রেমের নামও দেশপ্রেম। সংস্কৃতি-সাহিত্য ও ভাষার জন্য অবিচল থাকা। বঙ্গবন্ধু একেই বলেছেন চায়নাদের ‘জাতীয়তাবোধ। দেশের ও মাতৃভাষার প্রতি দরদ।’ এটা দেখেই কিনা বঙ্গবন্ধু চীনের সেই নানকিং সম্মেলনে বাংলায় বক্তৃতা দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।
সম্মেলনের কোনো এক দিন অস্ট্রেলিয়ান এক প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধুর কাছে নালিশ করে- ‘তোমার দেশের রাষ্ট্রদূতরা মনে করে, দুনিয়ার মানুষ আহাম্মক।’ আমি বললাম কেন? তিনি বললেন, ‘তোমার রাষ্ট্রদূত আর কর্মচারিরা যেভাবে থাকেন, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরাও সেভাবে থাকতে পারেন না।’ অস্ট্রেলিয়ান রাষ্ট্রদূতের কথায়- পৃথিবীর অন্য যে সকল দেশ উন্নত- ব্রিটেন, আমেরিকা, রাশিয়া সহ অবস্থাপন্ন দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা যা খায় ও পরে তোমার দেশের (পাকিস্তানের) লোকজন তাদের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করে। তারা বোঝাতে চায়- তারা কত ভালো জীবন যাপন করে। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতি করি- তারা তো জানি কোন দেশের কি অবস্থা। তোমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে মরে। কাপড়-চোপড় যোগাড় করতে পারে না। সে দেশের রাষ্ট্রদূত সহ সংশ্লিষ্টদের এভাবে খরচ করা আমাদের লজ্জিত করে। সেই সময়ের অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিবিদের কথা থেকে বুঝতে পারি- তখনকার পাকিস্তানের আমলাদের বিলাস-ব্যসনের কথা। আমরা বুঝতে পারি তাদের দেশপ্রেমের মাত্রা ও মেরু।
‘আমার দেখা নয়াচীন’এর এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন- চীনে যখন মাও সেতুংয়ের বেতন ৫০০ টাকা। তখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বেতন ছিল ১২ হাজার টাকা। পাকিস্তানে সর্বনি¤œ কর্মচারিরা বেতন পেতেন ২০/২৫ টাকা। মন্ত্রীদের বেতন ছিল ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। চীনে তখন মাও সেতুং থেকে শুরু করে সরকারের সর্ব নিম্ন কর্মচারি পর্যন্ত বেতন ছিল ৫০০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। ৫০ টাকা বেতনের লোক যাতে চলতে অসুবিধা না হয় সেজন্য ব্যবস্থা রেখেছে নয়া চীন সরকার। এই তুলনায় তখনকার পাকিস্তানের কথা ভেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিম্ন বেতনভুক সরকারি কর্মচারিদের জন্য আপসোস করেছেন। আর তারা বাজারের কাপড়ের দাম, চালের দাম, ঔষধের দামসহ যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেলে সমন্বয় করতে পারে না। আর মা সেতুং তো ছোট একটা বাড়িতেই থাকতেন। যেটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত।
সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকেই বাংলাদেশের জাতির পিতা রিকশা নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। চীন দেশকে দেখার জন্য। তাদের অগ্রগতি, পরিবর্তন দেখার জন্য। শুধু সরকার নয়, জনগণের সততা ও দেশপ্রেমে যে একটি দেশের চিত্র পাল্টে দিতে পারে এটাই যেন শেখ মুজিবের মনকে বার বার আন্দোলিত করেছিল।
একদিন পিকিং হোটেল যাওয়ার জন্য তিনি একজন রিকশাওয়ালা পেলেন। যেহেতু ভাষা সমস্যা। তিনি রিকশা ওয়ালাকে শুধু গন্তব্যের নাম বললেন- পিকিং হোটেল। আর কোনো দরদাম না করেই শেখ মুজিব উঠে পড়লেন রিকশায়। তিনি যাচাই করতে চান চীনা রিকশাওয়ালার সততা। একজন রিকশাওয়ালা নাগরিকের সততাও একটি দেশের জনগণের দেশপ্রেমের প্রমাণ বটে। আমাদের দেশের মত অজানা-অচেনা যাত্রী পেলে রিকশাওয়ালারা একটু বাড়িয়ে নেন কিনা! তাই। রিকশায় চড়ে পিকিং হোটেলের কাছে নেমে তিনি ১০ টাকার সম পরিমাণ নোট রিকশাওয়ালাকে দিলেন। বাঙালি মনের যে সন্দেহ, তা জাতির পিতার কাছে মিথ্যা প্রমাণ করলেন চীনা রিকশাওয়ালা। মাত্র আট আনা পয়সা নিয়ে বাকিটা তিনি ফেরত দিলেন রিকশাযাত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবকে। হোটেলে গিয়ে বঙ্গবন্ধু চায়না দোভাষীর সাথে এই নিয়ে কথা বললেন। বললেন- তোমাদের লোক এত সৎ জীবন যাপন করছে কিভাবে? বাকী অংশ আগামি কাল

লেখক : সাংবাদিক