নিশিকান্ত খালের ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

3

মো. শাহাদাত হোসেন, চন্দনাইশ

চন্দনাইশ উপজেলার বরমা কলেজ থেকে শুরু হয়ে চরবরমা পর্যন্ত সড়কের চরবরমা এলাকায় নিশিকান্ত খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে ৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও সবজি চাষীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ সড়কের চরবরমা এলাকায় নিশিকান্ত খালের উপর পুরাতন ব্রিজটি চলতি বছর এপ্রিল মাসে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভেঙে ফেলে। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিকল্প পথ সৃষ্টি করে। সে থেকে অদ্যবধি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু না করায় জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি শঙ্খ নদীতে বিপদ সীমানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে শঙ্খ নদীর পানির সাথে কচুরিপানা নিশিকান্ত খালে প্রবেশ করে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে সাঁকোটি ভেঙে চলাচলের বিপর্যয় ঘটলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেও কোনরকম প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তুলেন। এ সড়ক দিয়ে চরবরমা, বরমা, চরতি, আড়ালিয়া, আলিয়ার চর, নোয়াপাড়া, পূর্বপাড়া, বড়ুয়া পাড়া, আংশিক বাইনজুরী, পার্শ্ববর্তী তুলাতুলিসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ, মুমুর্ষ রোগী, কৃষক, শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয়। ব্রিজটি দীর্ঘ সময় ধরে নিমার্ণ না হওয়ার কারণে এ সকল এলাকার মানুষের দুর্ভোগের ওযন শেষ নেই। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ, মহিউদ্দীন, নাসির উদ্দীন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে এ এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত তরি-তরকারির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া এক সপ্তাহ ধরে বিকল্প বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজের পশ্চিম পাশে লোকজন সময়মত মসজিদে পর্যন্ত আসতে পারচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে কচুরিপানার মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম চক্রবর্তী বলেছেন, ব্রিজটি এলাকার জন্য কোনভাবে উপকারী নয়। তাই ব্রিজ নির্মাণ না করে খালটি ভরাট করে দিলে পার্শ্ববর্তী শতাধিক বালি ও পার্শ্ববর্তী শতাধিক একর ফসলি জমিতে বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদের আওতায় আসতো। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার করোনা ভাইরাসের কারণে সময়মত কাজ শুরু করতে পারেনি। পানি নেমে গেলে ২/১ দিনের মধ্যে বাঁশের সাঁকোটি মেরামতের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে জনগণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। চরবরমা এলাকার যতখালের উপর ব্রিজটি নির্মাণ না করে খালটি বন্ধ করে দিলে বিশাল এলাকা পানিমুক্ত থেকে চাষাবাদের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাস্টার আহসান ফারুক, এলডিপি নেতা মোসলেম খান, শিক্ষক জসিম উদ্দিন, এসএম জাকিরসহ অনেকেই। তারা আরো বলেন, ব্রিজের দক্ষিণ পাশে শঙ্খ নদী, উত্তর পাশে জনবসতির পাশাপাশি বিশাল এলাকা জুড়ে ধানী জমি ও অপরপাশে পুনরায় যতখাল। ফলে এ ব্রিজটির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানালেন তারা।