নির্মল পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা

2

পরিচ্ছন্ন ও নির্মল পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হচ্ছে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। আমরা উন্নত রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি, সেই সঙ্গে টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা দরকার। আগামীতে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যোগাযোগ মাধ্যমে সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সন্নিবেশ ঘটানো এ উন্নয়নের যাত্রাকেই আরও বেগবান করবে। রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথের কঠিন ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বেশ দুরূহ কাজ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে যাতায়াত ব্যবস্থার স্যানিটেশনকে যদি অনুসরণ করা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা অনেকটা এগোতে পারব। পরিবহন মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও নীতি নির্ধারকরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আন্তরিক হলেই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পরিসংখ্যান বলছে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৫শ মেট্রিক টন মানববর্জ্য মিশছে পরিবেশের সাথে। আগামী ২০৩০ সালে সেটা গিয়ে দাঁড়াবে ৮শ মেট্রিক টনে। এর আগেই সুয়্যারেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেকে সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য নালাসহ বিভিন্ন পানিপ্রবাহে ছেড়ে দিচ্ছেন, যা পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। আশার কথা, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বস্তি এলাকায় মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আবাসিক ভবনের সেপটিক ট্যাংকের মানববর্জ্য সংগ্রহ করে হালিশহরে নির্মাণাধীন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিয়ে পরিশোধন করা হবে। চট্টগ্রাম শহরকে ছয়টি জোনে ভাগ করে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এগুলো হলো- হালিশহর, কালুরঘাট, ফতেয়াবাদ, বাকলিয়া, কাট্টলী এবং পতেঙ্গা। প্রকল্পের প্রথম ক্যাচম্যানের কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হতে সময় লাগবে ২০২৬ সালে। ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে হালিশহরের সাথে আওতায় আসবে পতেঙ্গা এলাকার মানুষও। আর পুরো শহরকে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় আনতে অপেক্ষা করতে হবে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। ওয়াসার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীও। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহায়তা করছে চসিক। মূলত চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে জনসংখ্যা দ্রæত বাড়ছে। এই বিপুল মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বের সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নগরের বসবাসযোগ্যতা বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে নগরীর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহের সক্ষমতা।
বাংলাদেশ সরকারের এমডিজি যে অর্জন, সেখানে স্যানিটেশনে বাংলাদেশের অর্জনকে গ্লোবালি একটা রোল মডেল হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশ সরকার সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ছিল এনজিও, কমিউনিটি সংগঠন ও বিভিন্ন ধরনের স্টেকহোল্ডার। সবার পারস্পরিক অংশগ্রহণের কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এমডিজির পর যখন এসডিজি এলো, তখন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কীভাবে স্যানিটেশন নিশ্চিত করা যায়- সেটা নির্ধারণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এসডিজি অ্যাকশন প্ল্যানসহ আরও কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা করলো। সেখানে পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ওয়াসা, এলজিইডি, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করে। এই সুসমন্বয় অব্যাহত থাকা দরকার। এসডিজি-৬ যেন অর্জন করতে পারি।
স্যানিটারি ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। যেমন: নালাব্যবস্থা, খালব্যবস্থা, পানির ঢলে বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত ভূমিব্যবস্থা। এসব অবকাঠামোগুলো ময়লা পানি এবং অন্যান্য শক্ত বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হবে। স্যানিটেশন-প্রযুক্তিকে নির্দিষ্ট স্থানে সহজে ব্যবহারযোগ্যভাবেও প্রস্তুত করা যেতে পারে।