নির্বাচনপূর্ব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

13

 

সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের নির্ধারিত সময় ৩০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৩শ আসনের বিপরীতে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র স্ব স্ব এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন। কোনরকম জটঝামেলা ছাড়া সুষ্ঠভাবে নির্বাচনের প্রাথমিক অধ্যায় সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশনও। এরপরও প্রত্যাশার অপূর্ণতা রয়ে গেল। নির্বাচন কমিশনের বারবার আহবান এমনকি প্রয়োজনে তফসিল পেছানোর ঘোষণার মধ্যেও বিএনপি ও তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২টি দল নির্বাচনে আসেনি। বাকি নিবন্ধিত ৩০ টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এবং আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল ৩শ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এরপরও দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করা মানেই জনগণের একটা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অংশকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল নির্বাচনের বাইরে থাকছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য মোটেও সুখকর নয়। দেশের মানুষ নয় শুধু বন্ধু দেশগুলোর কয়েকমাস ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য, বিপরীতে সরকারের কাছ থেকে তারা প্রতিশ্রæতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করার জন্য। কিন্তু তারা তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সকল দলের অংশগ্রহণ না হওয়ায় দেশের মানুষ কিছুটা হতাশ বটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, যে নির্বাচন নিয়ে এতো আন্দোলন তাতো একেবারে দোরঘোড়ায়। এখন বিএনপি আন্দোলনে সফল হতে পারেনি; তাই বলে কি নির্বাচন বর্জন করবে? বিষয়টি অনেকে আত্মঘাতি বললেও বিএনপির ঘরণার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেলতলায় বার বার যেতে নেই। ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছেন, বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিএনপিবিহীন নির্বাচন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা। এটা ঠিক, আগামী নির্বাচনে অওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল অংশ নিতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলের সংখ্যাও কম নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে এখন করণীয় কী? নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে যেসব দল অংশ নিচ্ছে, সত্য এই যে, জনগণের কাছে সেই দলগুলোর তেমন গুরুত্ব নেই, যেমনটা গুরুত্ব রয়েছে বিএনপির। আমরা জানি না নির্বাচনের তফশিল পরিবর্তন করা হবে কিনা এবং তা করা হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা। বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হবে সেই ক্ষত পুষিয়ে নিতে নির্বাচনটা যাতে কোন বিশেষ দলের প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেই ব্যাপারে সজাগ থাকা। একথা ঠিক, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কমিশন বড়জোর নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচ্ছুক দলগুলোর প্রতি আহŸান জানাতে পারে। কমিশন সেটা করেছে। সুতরাং এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বড় কোনো দোষ ধরার সুযোগ নেই। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, নির্বাচনি পরিবেশ সহিংস বা সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে। কারণ অনেক নির্বাচনী আসনে একই দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। জাতীয়পার্টি, তৃণমূল, বাংলাধেম ইসলামী ফ্রন্টসহ বেশ কিছু দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে জোটে থাকাদের জন্য নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করা হবে মর্মেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে, নির্বাচনপূর্ব প্রতিটি ঘটনা সঠিক পর্যবেক্ষণে রেখে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনের দিন যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। এছাড়া নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে সর্বোপরি প্রার্থীদের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার সম্ভাবনা থাকে। আমরা মনে করি, এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করতে হবে।