নির্দেশনা মানছেন না চালক-হেলপাররা

7

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়ে ৬০ শতাংশ ভাড়াবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। এসব নির্দেশনার মধ্যে শুধু ভাড়াবৃদ্ধি ছাড়া আর কোন নিয়ম-কানুন মানতে দেখা যায়নি গণপরিবহনগুলোকে।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৩১ মামলায় ২৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করার পাশাপাশি সচেতনতার জন্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মাস্কও বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিন বহদ্দারহাট, জিইসি, টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, নিউমার্কেট ও কাজির দেউরি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। কোন গণপরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অর্ধেক যাত্রী নেয়ার কথা থাকলেও সব সিট ভর্তি করে এবং দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে জিইসি মোড় এলাকায় দেখা গেছে, দায়িত্বরত সার্জেন্ট কিছুক্ষণ পরপর গণপরিবহনে উঠে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করছেন। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন এবং মাস্কবিহীন যাত্রীদেরকে মাস্ক প্রদান করছেন।
সার্জেন্ট মো. আল আমিন জানান, ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশনামত সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তবে কোন মামলা বা জরিমানা আপাতত করছি না। এমনিতে মানুষ আমাদের কথা রাখছে।
ষোলশহর ২নং গেট মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মা সুয়ে মারমা এলি জানান, বাসে যাত্রীর সংখ্যা বলেন, স্বাস্থবিধি বলেন, সবকিছু আগের মতোই আছে। শুধু সরকারের নির্দেশনা পেয়েই ভাড়াবৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া আর কোন কিছুর পরিবর্তন হয়নি।
স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে হেলপাররা বলেন, লোকজন আমাদের কথা শুনছে না। তারা দ্রুত বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভিড় করে উঠছেন। এতে আমাদের কিছু করার নেই।
সিএমপি’র ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মশিউর রহমান বলেন, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে সকল সার্জেন্টদেরকে বলে দেয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে দেখছেন। আর সিএমপি’র পক্ষে মাস্ক প্রদান করা হয়েছে। কোন যাত্রীর মাস্ক না থাকলে তাকে মাস্ক দেয়া হয়। তারপরও স্বাস্থবিধির বিষয়টি সবাইকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানার চেষ্টা করা দরকার। এরপরও গাড়িতে অর্ধেকের বেশি যাত্রী যেন উঠতে না পারে সে বিষয়টি আমরা দেখছি।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরের জামান চৌধুরী জানান, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতসহ অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিআরটিএ’র তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা যতক্ষণ মাঠে থাকি, ততক্ষণ নিয়ম-কানুন পালন করে। আবার আমরা চলে আসলে, তারা আগের অবস্থায় ফিরে যায়- এমন অভিযোগ পাচ্ছি। আসলে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। এছাড়া আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের তৃতীয় দিনেও নগরজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি জনসাধারণের সচেতনতার জন্য মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জান গেছে, কাজীর দেউড়ি, চকবাজার এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চার মামলার বিপরীতে ২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আগ্রাবাদ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিবেদিতা চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঁচ মামলার বিপরীতে ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং এ.কে খান মোড় এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এক মামলার বিপরীতে ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
একই সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আফরোজ বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুই মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস অক্সিজেন মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাত মামলায় ৬ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুক জিইসি ও মুরাদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গণপরিবহনের নানা অনিয়মে ছয় চালককে ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন কর্ণফুলী ব্রিজ ও বহদ্দারহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছয় মামলায় ২ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান দৈনিক পূর্বদেশকে বলেন, সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে গণপরিবহনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি সচেতনতার জন্য মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়া অভিযান অব্যাহত থাকবে।