নিরাপদ ট্রেন যাত্রা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

3

রেল মন্ত্রণালয়ের অধিনে রেলওয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সময়মতো দ্রæত ও নিশ্চিত যাতায়াতের জন্য রেলের কোন বিকল্প নেই। ইংরেজ শাসন আমল হতে দেশে রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত। কালের পরিবর্তনে রেল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে খুব একটা উন্নত করতে সক্ষম হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর হতে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে মুখথুবড়ে পড়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীনের পর হতে রেল সেক্টরকে আধুনিকায়ন, রেললাইন সম্প্রসারণ, নতুন বগি সংযোজন, মেট্রো ও ডেমো ট্রেন চালুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ব্যাপক উন্নতির পরও রেলযাত্রীদের দুর্ভোগ, টিকেট নিয়ে অনিয়ম, রেলের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আছে একথা বলা সম্ভব নয়। রেল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। রেলের স্বার্থে দেশে বিস্তর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। কার্যত দেখা যাচ্ছে রেলের অধিগ্রহণকৃত বহু জমি কর্তৃপক্ষের বেহাত হয়ে আছে। নামেমাত্র কর্তৃপক্ষের থাকলেও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষি মহল রেলের জমি অবৈধভাবে ভোগ করে যাচ্ছে।
সরকারি এ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে যে সকল কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন, তা না করার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যার কারণে রেল যাত্রীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। রেলওয়ের টাইমফ্রেম কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলার কারণে ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যে কারণে দেশের ট্রেনসমূহ সময়মতো ছাড়া সম্ভব হয় না, মাঝপথে বিড়ম্বনার শিকারে পরিণত হয় রেলযাত্রীরা। তারা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতেও পারে না। বিগত ২৯ জুলাই ২০২২ মিরসরাই রেলের সাথে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১১ জন তাজা তরুণ প্রাণ ঘটনাস্থলে মারা যায়। রেল পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এ ঘটনার জন্য রেল কর্মচারীই দায়ি। এমন বিয়োগবিধূর ঘটনা সম্পর্কে রেলমন্ত্রী বলেছেন রেল কাউকে ধাক্কা দেয় না। যে দিন রেলমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন সেদিন রাজশাহীতে একটি লাইনে দুই ট্রেন মুখোমুখি হতে দেখা গেল। পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায় রাজশাহীতে নিয়মিত দুইটি ট্রেন একই সময়ে এক লাইনে মুখোমুখি হয়ে যায়। দুইটি ট্রেনেরই গতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো। রেল কর্মকর্তা কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে, সততা, দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলে এমন ঘটনা হতে পারে না। রেলমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায় রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়োগবাণিজ্য, দায়িত্বে অবহেলার মতো বিষয়গুলোতে বেশি বেশি নজর দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হলে রেলের তাবৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা রেলের ভেতর থাকা মাফিয়াদের সাথে হাত মিলিয়ে চললে বাংলাদেশ রেলওয়েকে নিয়মে আনা সম্ভব হবে না। রেল নিয়ে যে সকল সমস্যা দেখা যাচ্ছে সে সকল বিষয়ে রেলসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রেলকে যাত্রী সাধারণের কাক্সিক্ষত যানবাহনে পরিণত করতে দেশের জাতীয় বাজেটের একটি বিরাট অংশ বরাদ্দ দিচ্ছেন। অথচ রেল কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দায়সারা কর্মকাÐের জন্য রেল সেক্টরও সড়ক পথের যানবাহনের মতো ক্রমে মৃৃত্যু ফাঁদে পরিণত হতে চলেছে। দেশের পত্রপত্রিকা খুললেই রেলের অনিয়মের কথা পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যদি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে চট্টগ্রামে রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার দুইদিন পর রাজশাহীতে দুইটি ট্রেন এক লাইনে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাব্য দুর্ঘটনার পর্যায়ে দেখা যেত না।
দেশের মানুষ রেলমন্ত্রী ও রেলের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা, সততা, ন্যায়পরায়নতা এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর তাবৎ ব্যবস্থা আশা করে। রেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রেল সেক্টরের উন্নতি ও অগ্রগতির সকল অর্জন ব্যর্থ করে দেয়ার পাঁয়তারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশবাসী বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছে।