নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিং

6

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

সীতাকুন্ডে গোসলের ভিডিও ধারণ করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে অভিযুক্ত যুবক আবদুল্লাহ আল মামুনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত আসামির ধর্ষণে গৃহবধূর একটি সন্তান জন্ম হয় বলে দাবি পরিবারের।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সীতাকুন্ড থানা পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ শনিবার দিবাগত রাতে মামলার ১নং আসামি আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটে সীতাকুন্ড উপজেলার ৫নং বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নতুন পাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত ধর্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের নতুন পাড়া গ্রামের আনোয়ার মেম্বার বাড়ির মাহাবুব আলমের ছেলে।
সূত্র জানায়, স্বামীর বাড়িতে পুকুরে গোসল করার সময় বখাটে আবদুল্লাহ আল মামুন গোপনে কিছু নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে গৃহবধূর স্বামী চাকরিতে গেলে তার ঘরে যায় মামুন। এ সময় তাকে একা পেয়ে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং হুমকি প্রদান করে যে এ বিষয়ে কেউ জানলে স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। গৃহবধূ তার নিজের পরিবার ও স্বামীর নিরাপত্তার কথা ভেবে বিষয়টি গোপন রাখেন। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় মামুন পূর্বের ন্যায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ওই গৃহবধূ চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মামুন পালিয়ে যায়। এর আগেও একাধিকবার ধর্ষণের একপর্যায়ে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে গৃহবধূর গর্ভে একটি কন্য সন্তানের জন্ম হয়। ওই কন্যা সন্তানের চেহারার সাথে ধর্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের চেহারার মিল পাওয়ায় প্রতিবেশিরা গৃহবধূকে জিজ্ঞেস করলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ পূর্বের সকল ঘটনা খুলে বলেন। পরবর্তীতে সকলের পরামর্শে গৃহবধূ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নুরুল হুদা সুমন বলেন, আমার স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর আমার স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তানের চেহারার সাথে ধর্ষকের চেহারার মিল থাকায় প্রতিবেশিরা বিষয়টি নিয়ে কট‚ক্তি করতে থাকে। এতে আমার স্ত্রী লজ্জায় বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আমি মানসিক সাপোর্ট দেই। এখন মামলার বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সঠিক বিচার পাওয়া নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছি।
এ বিষয়ে সীতাকুন্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, আমরা অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। শিশু বাচ্চাটি কার সেটি জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। বাকী আসামিদেরও আমরা গ্রেপ্তার চেষ্টা করছি।