নামকরা স্কুলে সৃজনশীল কোনো কাজ নেই

19

চট্টগ্রাম ও ঢাকার মতো বড় শহরগুলোর নামীদামি স্কুলে ভালো ফলাফলের দিকে ছোটার ‘পাগলামো’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও। গত সোমবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় দিবসগুলোতে সৃজনশীল কাজে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এনিয়ে কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের তথাকথিত নামি-দামি স্কুলগুলোর সৃজনশীল কাজ নেই। এই বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক ও শিক্ষকরা সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের বলা যায় এক প্রকার মানসিক নির্যাতন করছেন। সেখানে পড়াশোনার বাইরে আমরা তাদের কিছু করতে দিই না, দিচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের এখানে চাপ দেওয়া হয়, তাদের ভালো ফল করতে হবে; ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। এই চাপে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন করে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার ‘ডেপুটির’ বক্তব্য নিয়ে বলেন, সৃজনশীলতার চর্চা ক্লাসে পড়িয়ে শিখিয়ে সম্ভব না। আমি মাননীয় উপমন্ত্রী যেসব কথা বললেন তার সঙ্গে শতভাগ একমত। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা দেখেছি যে রাজধানী ঢাকার বাইরের অনেক শিক্ষার্থী পুরস্কার পাচ্ছে। তারা অনেক সৃষ্টিশীল কাজ করছে। দেখা যাবে এরাই দেশে থাকবে, দেশের ভবিষ্যত, অর্থনীতি গড়বে। আর যাদের উচ্চ ফলাফলের জন্য মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে, তাদের বড় একটা সংখ্যা এক পর্যায়ে বিতৃষ্ণায় দেশ থেকে পালিয়ে যাবে, অথবা বিদেশে পড়তে গেলে আর আসবে না। নওফেল বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, তাদেরকে জীবনমুখী করার জন্য সৃজনশীল করা, সংস্কৃতিমুখী করা, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা সব পর্যায়ে যেন এটি হয় সেজন্য আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। আমাদের মাদ্রাসাগুলোতেও সংস্কৃতি চর্চা প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে ভবিষ্যতের জন্য আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের তৈরি করছি, সেই ভবিষ্যতে মূল দক্ষতাই হবে শিখতে পারার দক্ষতা। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর যোগাযোগের দক্ষতা, সূ² চিন্তার দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, অনেকের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা থাকতে হবে। আর যে শিক্ষার্থী যত বেশি সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তা করবে সেই শিক্ষার্থী এসব বিষয়ে ততই দক্ষ হয়ে উঠবে।
মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে এসেছি। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুনভাবে করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব শ্রেণিতে এই নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। বক্তৃতার পর তিন জাতীয় দিবসে শেখ রাসেল দেয়ালিকা তৈরি করে বিজয়ী নয় প্রতিষ্ঠান ও বিজয় দিবসে অঙ্গীকার লিখে বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সচিব সোলেমান খান এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. কামাল হোসেনও এ সময় উপস্থিতি ছিলেন।