নান্দনিক মসজিদে মুসল্লিদের জন্য স্বাস্থ্যকর ইফতার

13

এম এ হোসাইন

নান্দনিক সাজে সজ্জিত কাতালগঞ্জ বড় মসজিদ। পাঁচলাইশ থানার মোড়ে অবস্থিত মসজিদটির কারুকার্য যে কাউকেই সহজে আকৃষ্ট করে। বাইরে থেকে দেখতে যেমন অপরূপ, তেমনি ভিতরের কারুকার্য দৃষ্টিনন্দন। নান্দনিক এই মসজিদে রমজানের ইফতারের সৌন্দর্য্যটাও অপরূপ। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার আয়োজন হয় মসজিদটিতে। এতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক রোজাদার ইফতার করেন। সচরাচর ইফতার আয়োজনের বাইরে কলাসহ বিভিন্ন ফল দেওয়া হয়। তাছাড়া পরিবেশন করা হয় স্বাস্থ্যকর উপায়ে।
আসর নামাজের পর থেকেই মসজিদের বারান্দায় সারিবদ্ধ হয়ে বসে পড়েন রোজাদাররা। সবার সামনে দেওয়া হয় মিনারেল ওয়াটার, শরবত আর ইফতারি। সবকিছু পরিবেশন করা হয় ওয়ানটাইম (একবার ব্যবহার করা যায় এমন) প্লেটে ও গøাসে। সময় গড়িয়ে আসতেই বাড়তে থাকে রোজাদারের সংখ্যা। ইফতারি হাতে নিয়ে সবার অপেক্ষা থাকে সময়ের। মাইকে সাইরেন বাজলেই একসাথে ইফতার গ্রহণ করেন সবাই।
পাঁচ শতাধিক রোজাদারের জন্য কাতালগঞ্জ বড় মসজিদের ইফতারের এই আয়োজন এবারই নতুন নয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে এমন আয়োজন করে আসছেন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি। কারো কাছ থেকে কোন অনুদান বা অর্থ সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয় ইফতারের এমন আয়োজন। রোজাদারের সংখ্যা বাড়ার কারণে আয়োজকরা যেমন খুশি, তেমনি সুস্বাদু ইফতারি গ্রহণে খুশি রোজাদাররাও।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-মতোয়াল্লী ও কাতালগঞ্জ সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. এমরানুল হক বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে ইফতার আয়োজন করি। কারো কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা বা অনুদান নেই না। পুরো রমজানেই এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে। আমাদের মধ্যে কেউ ওয়ান টাইম প্লেট, গ্লাস এগুলো দেয়, কেউ পানি আবার কেউ ছোলা, মুড়ি, খেজুর দেয়। আট বছর ধরে আমরা এই আয়োজন করে আসছি। দিন দিন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
তিনি বলেন, রমজান মাস পবিত্র মাস, সংযমের মাস। ইফতারের উদ্দেশ্যে হলেও মানুষ মসজিদে আসছেন। মসজিদমুখি হচ্ছেন। মসজিদমুখি হলে সেই মানুষ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকেন। ইফতার আয়োজনে এটাও একটা উদ্দেশ্য।
ইফতারের আগে কাতালগঞ্জ বড় মসজিদের সামনের রাস্তায় রিকশার দীর্ঘ সারি হয়। মূলত রিকশা চালক রোজাদাররা রিকশা দাঁড় করিয়ে ইফতারে শরিক হন। ধনী-গরিবের বৈষম্যহীন সুবিশাল আয়োজনে মিশে যান সকলে। সেই সারিতে নানা শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ বসে দোয়া, মোনাজাত ও ইফতারে মিলিত হন। ইফতার শেষেই নান্দনিক মসজিদে আদায় করেন মাগরিবের নামাজ। যেখানে সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করে।
ইফতারে শরিক হওয়া আবুল কাশেম বলেন, কাতালগঞ্জ মসজিদ একটি নান্দনিক মসজিদ। ইফতার আয়োজনেও এখানকার পরিবেশ অন্যান্য জায়গা থেকে ভিন্ন। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এখানে ইফতার পরিবেশন করা হয়। ইফতারির সাথে বিভিন্ন ফল, শরবত থাকে। বলতে গেলে সবগুলো খাবারই স্বাস্থ্যকর।