নাজিমের নৌকা হারালো কর্ণফুলীতে

35

কর্ণফুলী প্রতিনিধি

কর্ণফুলী উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে। এতে এক প্রার্থীর নাম প্রথমে থাকলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বলে অভিযোগ। এছাড়া একই অভিযোগে আরও অনেকেরই কপালে জোটেনি নৌকা প্রতীক। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা আর সমালোচনা। জানা গেছে, নৌকা প্রতীক পেয়েও হারালেন কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও মিল্কভিটার পরিচালক নাজিম উদ্দিন হায়দার। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন থেকে নাজিম উদ্দিন হায়দারের নাম ছিল। কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সালে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন- এ অভিযোগে তাকে বাদ দিয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সোলাইমান তালুকদাকে মনোনয়ন দিয়ে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড।
প্রথম তালিকা প্রকাশের পর নাজিমের সমর্থকরা আনন্দে আত্মহারা হন। কিন্তু ঘণ্টা খানেক পর তা পরিণত হয় বিষাদে। এরপর সোলাইমান তালুকদারের সমর্থকরা হন খুশিতে আত্মহারা। এখন পুরো ইউনিয়নে আনন্দ-বেদনায় কে, কীভাবে নৌকা পেয়েছেন আর অন্যরা কেন নৌকা পেলেন না, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জুলধা ইউনিয়ন ও শিকলবাহা ইউনিয়নেও একদিকে আনন্দ আর অন্যদিকে বিষাদের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে। জাতীয় পার্টি ও বিএনপি হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মোহাম্মদ রফিক। এরপর তিনি হন জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৬ সালে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তিনি চেয়াম্যোন নির্বাচিত হন।
স্থানীয়দের ধারণা ছিল, তিনি এবার দলীয় মনোনয় পাবেন। জোর লবিংও ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহের অভিযোগে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও ২০১৬ সালে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়া হাজী নুরুল হক।
শিকলবাহা ইউনিয়নে নিজ দলের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়ে গতবার জয় পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু নৌকা দেয়া হয় আবদুল করিম ফোরকানের হাতে। যদি জাহাঙ্গীর আলম আবার বিদ্রোহ প্রার্থী হন, তাহরে ফোরকানকে জিতিয়ে আনা খুবই কষ্টকর হবে।
গতকাল বিকালে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি জনগণের, জনগণ আমার। জনগণের হয়ে আমি নির্বাচনের মাঠে থাকব।
অন্যদিকে বড়উঠান ইউনিয়নে একেবারে অপ্রত্যাশিভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল আলম। দলীয় মনোনয়নের জন্য তৃণমূল, উপজেলা এবং জেলা থেকেও তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি মনোনয়ন বোর্ডের কাছে। কিন্তু দিদারুল আলম দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন। আর সেখানেই তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এ ইউনিয়নে কোন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলে তিনি আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেন বিনা ভোটে।