নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

7

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি থেকে পোটলায় মোড়ানো ৩ হাজার ৫৫০ পিচ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত তিনদিনে লক্ষাধিক ইয়াবাসহ ৪ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, পুলিশের অব্যাহত অভিযানের ফলে ফের উপজেলার সোনাইছড়ির রেজু হেডম্যান পাড়া থেকে হাতেনাতে ৩ হাজার ৫৫০ পিচ ইয়াবাসহ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কুড়িপাড়ার মোঃ হাবীবুর রহমান মোল্লার ছেলে মো. জামাল মোল্লা (৩৭) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে ইতোপূর্বে পেটের ভিতর বহন করে টেকনাফ-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১২বার ইয়াবা পাচার করেছে। অবশেষে ১৩তম চালানে নাইক্ষ্যংছড়ি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সে। এদিকে সুত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম, সোনাইছড়ি ও দৌছড়ি এলাকা মিয়ানমার সীমান্তে হওয়ায় এখানকার কিছু অসাধু মাদক কারবারিরা আড়াল থেকে দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমার থেকে বিদেশী মদ,ইয়াবাসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজ কারবার করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে এসব মাদকের চালান। এরই মধ্যে নিয়মিত আইনশৃংখলা বাহিনীর জালে আটকা পড়ছে ইয়াবার বড় বড় চালানও। তবুও থেমে থাকেনি ইয়াবা পাচার। ভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে মাদককারবারীরা। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে ৯ জুন রাতে ৪৯ হাজার ইয়াবাসহ দুই জন এবং ১০ জুন বিকালে ৩৯ হাজার ২শ ইয়াবাসহ ১ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। অপরদিকে অভিযানের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, সীমান্তের রেজু এলাকা থেকে কৌশলে ইয়াবা পাচার করবে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তার জামাল মোল্লার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শ ৫০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবা ছোট ছোট পোটলা পেঠের ভিতরে ভরে তা পানি দিয়ে গিলে খাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করেছিল। যার ওজন ৩৫৫ গ্রাম। কিন্তু পোটলাগুলি খাওয়ার আগেই পুলিশ পোটলায় মোড়ানো ইয়াবা উদ্ধার করে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনের কৌশলী মাদকবিরোধী সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মাদককারবারী গ্রেপ্তার হয়েছে। যা ইতোপূর্বে থানার কোন কর্মকর্তার দ্বারা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় মাদক বহনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পর্দার অন্তরালে থাকা মুল ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠছে সর্বমহলে।