নভেল করোনাভাইরাস গরমে ছড়ায় কম?

33

তুষারপাতের দিন কাটিয়ে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এখন ঋতু পরিবর্তনের হাওয়া। ধীরে ধীরে গরম বাড়ছে; তাপদাহও বাড়ছে। উষ্ণ আবহাওয়া কি নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে পারে? তাপমাত্রা বাড়লে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমবে কি না সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে বিশ্ব। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নভেল করোনাভাইরাসও কোনো মৌসুমি সংক্রমণের ধাঁচ অনুসরণ করে কিনা তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেজ্ঞরা। তবে তার মাত্রা খুব সামান্য হতে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন। যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাজ্যে ঠান্ডার উপসর্গ দেখানো করোনাভাইরাসের অন্য ধরনগুলো নিয়ে প্রাথমিক গবেষণায় ঋতু বদলের সঙ্গে সংক্রমণ বাড়া-কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। শীতে এটা বেড়ে গেলেও বসন্তে আর থাকে না। তবে অল্প কয়েকটি করোনাভাইরাস আছে যেগুলো গরমেও সংক্রমিত হয় বলেই মনে হয়।
এইচসিওভি-এনএল৬৩, এইচসিওভি-ওসি৪৩, এইচসিওভি-২২৯ই নিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা গত সপ্তাহে প্রকাশ হয়েছে। কয়েক বছর আগের নমুনা বিশ্লেষণ করে ওই গবেষণা বলছে, ফেব্রæুয়ারি মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক বেশি; কিন্তু গ্রীষ্মে এই প্রকোপ কমে আসে। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে করোনাভাইরাসের বিস্তারে বেশ-কম নিয়ে আরো কিছু গবেষণাতেও দাবি করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে গার্ডিয়ান। এরপরও কিছুটা সতর্ক থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ওই গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া রব অলড্রিজ। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, “তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকৃতি এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা বলে ঋতু বদলের কারণে এই প্রকোপ প্রভাবিত হবে কিনা তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। এ কারণে এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই জরুরি।”
বিজ্ঞানীদের মধ্যে কেউ কেউ হুঁশিয়ার করে বলছেন, এই ভাইরাস একেবারে নতুন মানুষের শরীরে হঠাৎ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া কঠিন। এ কারণেই গ্রীষ্ম এসে গেলেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো থামছে না। ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভাইরোলজিস্ট মাইকেল স্কিনার বলেন, “ঋতু পরিবর্তন এই ভাইরাসের বিস্তারে প্রভাব ফেললেও তা খুব সামান্য হতে পারে। তা কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব রাখার বিকল্প হতে পারে না।”