‘নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেমের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে’

67

গত ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় পুরাতন চান্দগাঁও থানাস্থ চট্টগ্রাম নটরডেম স্কুল এন্ড কলেজ অডিটরিয়ামে বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ২৬২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আজ থেকে ২৬০ বছর আগে ২ জুলাই ১৭৫৭ সালে দেশদ্রোহী ঘাতকের হাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিহত হন। ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীন শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘাতকের হাতে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়। পরাজয়ের পর নবাবের বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও উপমহাদেশের মানুষ নবাবকে আজও শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করে। বক্তারা আরো বলেছেন, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে নবাবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করে যান। নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। নবাবের আপন খালা ঘাতক ঘষেটি বেগম ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলান। সেনাপতি মীর জাফর আলি খান, ধনকুবের জগৎ শেঠ, রাজা রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। ধূর্ত ইংরেজরা সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে চন্দননগরের ফরাসীদের দুর্গ দখল করে নেয়। এরপর ১৭৫৭ সালের ১৭ জুন ক্লাইভ কাটোয়ায় অবস্থান নেয়। নবাব ২২ জুন ইংরেজদের আগেই পলাশী পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন সকাল ৮টায় যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। সেই সঙ্গে বাংলা স্বাধীন সূর্য অন্তমিত হয়। ইন্টারন্যাশনাল হিস্ট্রি রিসার্চ এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে ২ জুলাই মঙ্গলবার নবাব সিরাজউদ্দৌলার ২৬২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গ্রন্থপ্রণেতা ইন্টারন্যাশনাল হিস্ট্রি রিসার্চ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হোসেন মুরাদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক এ কে এম আবু ইউসুফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, প্রবীন সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুচ কুতুবী, অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, কবি নাছির বিন ইব্রাহিম, সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান, কাজী আবদুল মোতালেব, বিশিষ্ট লেখক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা জানে আলম, আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম, কাজী তৌহিদ নেওয়াজ প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি