নদীর পাড়ে বিকেলবেলা

86

সারা দুপুর জেগে থাকি বাতাসে কান পেতে
ডাক দেবে কে বাইরে যেতে? কখন বিকেল হবে?
কাঁঠাল গাছের মাথা থেকে রোদ যেতে না যেতে
পাখির ঝাঁকও উড়ে আসে যোগ দিতে উৎসবে;
উড়– উড়– হাওয়া তখন জানায় আমন্ত্রণ
নদীর পাড়ে যেতে আমার কেমন করে মন।

পাগলছেলে ভাবুকছেলে লক্ষ্মীছেলে বলে
মা যত না আদর করুক আগলে রেখে ঘরে
ঝাউপাতারা বাজায় বাঁশি কী জাদু কৌশলে!
সুরের টানে ছুটতে থাকি টেউ খেলে অন্তরে
হাতছানি দেয় ছোট্ট নদীর স্বচ্ছ মিটে জল
কৃষ্ণচুড়া থেকে আলো ঝরে অবিরল।

নদীর খুশি ছড়িয়ে পড়ে আকাশ পাড়ের মেঘে
খুশির ছবি থরে থরে কেউ রেখেছে এঁকে!
দুপুরে-ঘুম ভেঙ্গে তখন ঢেউ উঠেছে জেগে,
সোনালুফুল থেকে রোদও সোনালী রঙ মেখে
দেয় ছড়িয়ে গাছের পাতায় এবং নানান ফুলে
সবাই আছে খেলায় মেতে খেলার এই স্কুলে।

বিকেল এসে নদীর খুশি ছড়িয়ে দিতে দিতে
চুপি চুপি সন্ধ্যা এসে বাজায় রাতের বাঁশি
মায়ের কাছে ছুটতে থাকি গুটিয়ে খেলার ফিতে
আনন্দে বুক ভরে ওঠে দেখলে মায়ের হাসি,
ছোট্ট-নদী এবং বিকেল মায়ের হাসির মত
মনের ভেতর কী যেন সুখ ছড়ায় অবিরত।