নতুন কর্মসূচির সাথে ‘সুখবরের আশা’ বিএনপির অবস্থা

8

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ অবস্থায় নতুন কর্মসূচির কথা ভাবছে দলটি। তবে বিজয়ের মাসে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা চিন্তা করছে। আবার গুঞ্জন রয়েছে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ম্যাডামের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টায় আছি। আন্দোলনে গণজমায়েত এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সরকারের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। কূটনৈতিক মহল থেকেও ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসবে এমনটা আমরা আশা করছি।
গত ১৩ নভেম্বর এভার কেয়ারে ভর্তি করানোর পর সেদিন রাতেই সিসিইউ’তে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন খালেদা জিয়া। এর আগে, ১২ অক্টোবর এভার কেয়ার হাসপাতালে ২৭ দিন চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন তিনি। যদিও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই (১৩ নভেম্বর) আবারও এভার কেয়ারে যেতে হয় তাকে। ক্রমে তার শরীর খারাপ হতে থাকলে গত ১৮ নভেম্বর চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। যে কারণে সেদিনই বিএনপির পক্ষ থেকে জরুরিভাবে তাকে পরিবারের আবেদন অনুযায়ী বিদেশে পাঠানোর দাবি করা হয়।
গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ম্যাডাম এখন সিরোসিস অব লিভারে আক্রান্ত। হিমোগেøাবিন লেভেল প্রথমবার কমে গিয়েছিল ৫ দশমিক ৫-এ। তারপর আমরা তাকে চার ব্যাগ রক্ত দিয়ে হিমোগেøাবিন লেভেল ৯-১০ এর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলাম। আবার সেটা কমে এসেছিল ৭ দশমিক ৮-এ। এভাবে আমরা রক্ত দিচ্ছি।’
পরে ৩০ নভেম্বর রাজধানীতে দলের বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় চতুর্থ দফায় রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর থেকে চার দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।
এদিকে দলীয় প্রধানের মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। এ ইস্যুতে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিজয়ের মাস হিসাবে ডিসেম্বরে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে চায় দলটি। ধারাবাহিকতা রক্ষায় ঘরোয়া কর্মসূচির কথা চিন্তা করছে বিএনপি। আগামীকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি চলমান রয়েছে। রবিবারও (আজ) সমাবেশ রয়েছে। আমরা আরও কর্মসূচি দেবো। আগামী সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
অবশ্য এরমধ্যে কূটনৈতিক মহলে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিএনপি। কূটনৈতিক মহলে আলোচনার মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে দলটি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদেশ বিষয়ক কমিটির অন্যতম সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। সব মিশন থেকেই জানতে চাচ্ছে ম্যাডামের অবস্থা, আমরা তাদেরকে তার অবস্থা সম্পর্কে জানাচ্ছি।