নতুন করে আলোচনায় পরীর পাহাড়

42

সবুর শুভ

বর্তমান সময়ে তুমুল আলোচনার ইস্যু পরীর পাহাড় তথা আদালত ভবন এলাকায় এবার আসছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। তাঁর সফরসূচি অনুযায়ী বিস্তারিত কর্মতৎপরতার তালিকা ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছে। ৬ দিনের লম্বা এ কর্মতৎপরতা শুরু হবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব চট্টগ্রামে থাকবেন ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ে মধ্যে তিনি চট্টগ্রামের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবেন বলে সফর তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের গুরুত্বপূর্ণ কর্মতৎপরতার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পরিদর্শন। ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি এখানে আসবেন। মূলত পরীর পাহাড়ের সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এখানে আসছেন এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীর পাহাড় নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও আইনজীবীরা বিতর্কে জড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে চিঠি দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। আইনজীবী সমিতিও গত ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ সভার মাধ্যমে আদালত এলাকায় আইনজীবীদের জন্য দু’টি নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান জানান দিয়েছে। এ অবস্থায় মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস এর বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি অফিস পরিদর্শন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আসছেন ৬ দিনের সময় নিয়ে।
পরীর পাহাড়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করবেন কিনা এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা এখন বলতে পারছি না। তবে মাননীয় মুখ্য সচিব পরীর পাহাড়ের জঞ্জাল সম্পর্কে অবগত আছেন।
এদিকে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের (মহানগর) ৪ জনের একটি দল গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এসেছিলেন। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুরুল্লাহ নুরী। জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির প্রেক্ষিতে তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
তথ্য মতে, পরীর পাহাড়ে আইনজীবী সমিতির দু’টি নতুন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে পত্রিকায় সম্প্রতি বিজ্ঞাপন দেয়া হয় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের তরফে। এ নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনজীবী সমিতি সাধারণ সভা করে।
এদিকে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টির মধ্যেই ১৪টি সেবা সংস্থার কাছে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। এসব চিঠির মূল উপজীব্য হচ্ছে আইনজীবী সমিতির ওই দুই ভবনই। যেগুলো আইনজীবীদের চেম্বারের জন্য নির্মাণ প্রক্রিয়ার কথা বলা হচ্ছে। ১৪ চিঠির মধ্যে আদালত অঙ্গনে সংযোগ না দিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে নির্দেশনা দেয়ার তিনটি চিঠিও রয়েছে।
জানা গেছে, ১৩০ বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পরীর পাহাড় তথা আদালত ভবনে আইনজীবীদের জন্য দু’টি ভবন করা না করা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যায় দু’পক্ষ। আদালত ভবন এলাকায় আইনজীবীদের নতুন দু’টি ভবন নির্মাণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ‘চেম্বার বরাদ্দ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি’ দেয়ার ৯ দিনের মাথায় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে ‘সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি’ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আদালত অঙ্গনে আসার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এনামুল হক জানান, কেন বিতর্ক করা হচ্ছে জানি না। আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ভবন আছে ৬টি। অবশিষ্ট সব জেলা প্রশাসনের স্থাপনা। এতে পরীর পাহাড়ের সৌন্দর্য কারা নষ্ট করছে তা সহজেই বুঝা যায়। পাহাড় কেটে আইনজীবীদের কোনও ভবন করা হয়নি। পাহাড়ের অবয়ব অক্ষুণœ রেখেই ভবন করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এসব ভবনের অনুমোদনও নেয়া হয়েছে।