নগরে যান চলাচল স্বাভাবিক, বন্ধ দূরপাল্লার বাস

8

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি-জামায়াতের চতুর্থ দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ গতকাল শেষ হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) একদিন বিরতি দিয়ে আগামীকাল থেকে ফের অবরোধ ডেকেছে। অবরোধে যাত্রী সংকটের কারণে নগরী থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল না করলেও অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। গতকাল সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে গুটিকয়েক বাস-মিনিবাস বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ছেড়ে যায় দ্বিগুণ ভাড়ায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় মহাসড়কে গাড়ি নামাতে সাহস পাচ্ছেন না চালকরা। সকালে নগরের বিভিন্ন আন্তঃজেলা টার্মিনাল ঘুরে দূরপাল্লার বাসগুলোকে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে অবরোধের মধ্যে টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মিনিবাস, হিউম্যান হলার চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে চলেছে পণ্য বোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যানও।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। চলেছে বাস, টেম্পু, লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহন। তবে সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রæপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজাহান পূর্বদেশকে বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে গাড়ি চলাচল করলেও নিরাপত্তার শঙ্কায় চলছে না দূরপাল্লার বাস। তবে কিছু কিছু গাড়ি আমরা সকাল ও বিকেলে ছাড়ছি। দুপুরের দিকে যাত্রী কম থাকায় দূরপাল্লার বাস ছাড়া যাচ্ছে না।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লাসহ দেশের ১১৭টি রুটে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ৭-৮টি রুটে যানবাহনের সংখ্যা বেশি। তবে অবরোধের কারণে নগরীর বিআরটিসি বাস টার্মিনাল, শুভপুর বাস স্ট্যান্ড, কদমতলী বাস স্ট্যান্ড, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু এলাকা, একে খান মোড়, অলংকার, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি।
এদিকে অবরোধের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহনে পুলিশের সহায়তা চাইছে তাদের পণ্য পুলিশ পাহারায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবোঝাই পরিবহন সবচেয়ে বেশি চলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।
নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল। তারা বলছেন, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রæপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা অবরোধেও গাড়ি চালাচ্ছি। নগরে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল করছে। কিন্তু মহাসড়কে নিরাপত্তার ভয়ে অনেকে গাড়ি নামাচ্ছেন না। এছাড়া যাত্রী না থাকায় গাড়িও ছাড়ছে না’।
এদিকে নগরীতে অবরোধের অজুহাতে ছোট পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রী মো. অনিক বলেন, ‘সিএনজি ট্যাক্সি ও ছোট পিকআপের দাপট বেড়েছে। মিটার না থাকায় তারা মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা করে নিচ্ছে।’