নগরে বুদ্ধপূর্ণিমার শান্তি শোভাযাত্রা

11

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে শান্তি শোভাযাত্রা, বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে প্রদীপ প্রজ্বালন, পূজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করেছেন। ‘জগতের সকল প্রাণি সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ- এই স্মৃতি বিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করেন বুদ্ধ ভক্তরা।
এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার সকালে নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সবাইকে অহিংসা আর মানবতার ধারক হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে জানিয়ে সভায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করবে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। আর সেই আদর্শ হচ্ছে ধর্মে ধর্মে কোনও হানাহানি থাকবে না। দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।’
সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে এসে শেষ হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ছুটির এদিনের শুরুতে সারাদেশে শান্তি শোভাযাত্রা ও বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বালন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবিভর্‚ত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডরেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সকাল ছয়টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।