নগরীর ৩ রুটে বাস মনিটরিং শুরু আজ

44

নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে এবার কার্যকরী উদ্যোগ (পাইলট প্রকল্প) নিয়েছে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। প্রাথমিকভাবে নগরীর ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর রুটের বাসগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিল ট্রাফিকের উত্তর এবং বন্দর বিভাগ। ১২ দিনের মাথায় উল্লেখিত রুটে গাড়িগুলোর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এবার নগরীর ৫, ৮ এবং ১১ নং রুটে চলাচলরত বাসগুলোকে ঢেলে সাজাতে আজ থেকে মনিটরিং শুরু হবে।
একইভাবে নগরীর সকল রুটগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন নগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক আহমেদ।
এর আগে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি সিদ্ধান্ত হয়। তারমধ্যে রয়েছে নির্ধারিত স্থান ব্যতিত অন্য কোথাও বাস দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। যতক্ষণ রাস্তায় থাকবে, ততক্ষণ প্রতিটি বাসকে নির্দিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত চলাচল করতে হবে। মাঝপথ থেকে ঘুরানো যাবে না। প্রতিটি বাসের যাত্রীকে ভাড়ার টিকেট দিতে হবে। বাসচালকের নির্দিষ্ট পোশাক থাকতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোন চালক গাড়ি চালাতে পারবে না।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক বিভাগের এ সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না তাও মনিটরিং করবে সার্জেন্টরা। ইতোমধ্যে কালুরঘাট ও সি-বিচ মোড়ে সকাল-বিকাল ৪ জন সার্জেন্টকে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো রুটে এমন শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা হবে। আজকে থেকে কার্যক্রম শুরু করবে ৫, ৮ এবং ১১ নং রুটের বাসগুলোর মনিটরিং। সেখানে যেসব বাসগুলোর অনুমোদন রয়েছে সেসবের কাগজপত্র (ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন, রেজিস্ট্রেশন) ঠিকঠাক আছে কি না তা যাচাই করা হবে।
নগরীতে প্রাথমিকভাবে শুরু করা দুইটি রুটে গিয়ে দেখা যায়, কালুরঘাট এলাকা হতে সি বিচ পর্যন্ত ১০নং রুটে চলাচল করা গাড়ির অনুমোদন রয়েছে ২০৫টি, তার মধ্যে চলাচল করতে দেখা গেছে ১৭১টি। একই সাথে লালদীঘির পাড় থেকে সি বিচ পর্যন্ত ৬ নং রুটে চলাচল করা গাড়ির অনুমোদন রয়েছে ১৫০টি, তার মধ্যে চলাচল করতে দেখা গেছে ১৩১টি। অথচ আগে এসব গাড়ি ইপিজেড মোড় থেকে ঘুরিয়ে পুনরায় চলে আসতো। আর ১০ নং রুটের বাসগুলো বহদ্দারহাট মোড়ে এসে থেমে যেতো। ট্রাফিকের এমন উদ্যোগের কারণে ওইসব রুটের গাড়িগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছে।
অনুমোদনকৃত অন্যান্য গাড়িগুলো চলাচল কেন করছে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাফিক উত্তর বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন খান বলেন, সব গাড়ি তো রাস্তায় চলাচল করে না। কিছু গাড়ি গ্যারেজে থাকে আবার কিছু গাড়ির কাগজপত্র অসঙ্গতির কারণে ড্যাম্পিং এ থাকে। তবে যে কয়টি গাড়ি বর্তমানে রাস্তায় চলাচল করছে সেগুলো পরীক্ষিত।
আর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রী সাধারণও। তারা বলেন, অনেকদিন পর ট্রাফিক বিভাগ থেকে কার্যকরী একটি উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
চাকরিজীবী ইমরান হাসান বলেন, অর্ধেক পথে নামিয়ে দেওয়ার কারণে আমাদের নতুন করে গাড়িতে উঠতে হতো আবার ভাড়ার ক্ষেত্রেও দ্বিগুণ টাকা গুণতে হতো। ট্রাফিক বিভাগ তৎপর হওয়ার কারণে এখন বাসগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছে।
টাইগারপাস এলাকার মারুফুল ইসলাম জানান, জনসাধারণের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে নতুন এ উদ্যোগ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই।
এদিকে ট্রাফিকের পাশাপাশি জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ট্রাফিক বন্দর বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) এসএম শওকত হোসাইন বলেন, আমরা কষ্ট করলে তো হবে না। যাত্রীদেরও আন্তরিক হয়ে দেশের আইন-কানুন মানতে হবে। যাত্রীরা যদি নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যতিত চালকদের বাস দাঁড় করাতে না বলে আর বিআরটিএ’র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যদি অতিরিক্ত ভাড়া না দেয়, তাহলে আমাদের অনেক কষ্ট লাঘব হবে। একই সাথে সড়কে দ্রæত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এখন ধরুন, ‘আপনি একটা গাড়ি রাস্তার পাশে রং পার্কিংয়ে রেখে চলে গেছে, এখানে দোষটা কার? পরে যখন পুলিশ মামলা দিতে আসে, তখন মামলা না দেওয়ার জন্য উঠে পরে লাগেন। আর পুলিশ মামলা দিলেই সমস্যা’। সুতরাং এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। ট্রাফিকের এ সিদ্ধান্তের সাথে সমর্থন দিয়েছেন গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রæপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল পূর্বদেশকে বলেন, ‘ট্রাফিকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছি। আশা করছি, পুলিশের এ উদ্যোগটি ধারাবাহিকভাবে থাকবে। অন্যথায় এটা কিছুদিন পর ঝিমিয়ে পড়বে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি রুটকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হোক।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মোস্তাক আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আমরা পাইলট প্রকল্প নামে একটি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর রুটে চলাচলকারী পরিবহনগুলোকে এ কার্যকরি উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে। এবার হাত দিয়েছি ৫, ৮ এবং ১১নং রুটে। এখানেও একইভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেমন- বাসগুলোকে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা করতে দেওয়া হবে না। চালকদের বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম পরিধান করতে হবে এবং লাইসেন্স রাখতে হবে। শেষ গন্তব্যে পৌঁছার আগে মাঝপথে গাড়ি ঘোরানো যাবে না। যাত্রীদের ভাড়া উল্লেখ করে টিকেট বিতরণ করতে হবে। আর এসব পদক্ষেপ গাড়ি চালকরা অনুসরণ করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে তিন স্থানে বসানো হবে মনিটরিং ব্যবস্থা। একই সাথে সিএমপি’র এ কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।